বাংলা সংবাদ ডেস্ক
১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের গাজা মিশন কতটা সফল হবে

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন, নিউইয়র্ক টাইমসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কলাম লেখক ও প্রাচ্যবিদ টমাস ফ্রিডম্যান কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনি সাহসী হলে মধ্যপ্রাচ্য পুনর্নির্মাণ করতে পারেন।

 

ট্রাম্প যেন এখন ফ্রিডম্যানের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এবং একে সম্পূর্ণ নতুন স্তরে নিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার তিনি ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজা উপত্যকার ‘অধিগ্রহণ’ ও ‘মালিকানা’ নেবে, যেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দাপ্তরিক হিসাব অনুযায়ী ইসরায়েল প্রায় ৬২ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যদিও বাস্তবে তা আরও বেশি। গাজার বেশিরভাগই ধ্বংসস্তূপে পরিণত।

 

যাই হোক, বিশ্ব মানচিত্রে গাজার অবস্থান সম্পর্কে ট্রাম্পের ধারণা অস্পষ্ট বলে মনে হচ্ছে। যেমন হাস্যকরভাবে তাঁর এই বিভ্রান্তিকর দাবিটি তা-ই প্রমাণ করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন গাজায় গণহত্যার প্রধান হোতা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর সঙ্গে বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসে বক্তৃতাকালে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র গাজা উপত্যকা দখল করবে এবং আমরা এ ব্যাপারে একটা কাজ হাতে নেব। আমরা এটির মালিক হবো।’

 

ট্রাম্পের মতে, বিধ্বস্ত উপকূলীয় ছিটমহলের ওপর এই ‘দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা’ মূলত ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার বেশিরভাগ বাসিন্দাকে ‘মানবতাবাদী ডাকে সাড়া দেওয়ার সঙ্গে আগ্রহী অন্যান্য দেশে’ জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত করতে বাধ্য করবে, যাতে গাজা ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরা’য় রূপান্তরিত হতে পারে। ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধভাবে একটি অঞ্চল দখল করার আশঙ্কা নিয়ে কারও প্রশ্নের ব্যাপারে আশ্বস্ত করে ট্রাম্প শ্রোতাদের বলেন, ‘আমি যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই জমির মালিকানা, উন্নয়ন ও সেখানে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধারণা পছন্দ করছেন। এটি হবে দুর্দান্ত।’ যাই হোক, জাতিগত নিধন মহৎ ছিল না, কে বলেছিলেন? আর যদি এমন লোকেরা থাকেন, যারা অন্য কিছু ভাবেন, তাহলে ভালো। ট্রাম্প পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য মার্কিন সেনা মোতায়েনের আশঙ্কা বাতিল করেননি। ‘যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি গাজাসংশ্লিষ্ট, আমরা যা প্রয়োজন তা করব। প্রয়োজনে আমরা তা করব।

 

অবশ্যই একজন বিলিয়নেয়ার, সাবেক রিয়েল এস্টেট টাইকুন, নিউইয়র্ক সিটির আইকনিক ট্রাম্প টাওয়ারের অধিপতির লাভজনক ব্যবসায় সুযোগ চিহ্নিত করার ব্যাপারটি বিশেষত চমকপ্রদ কিছু নয়, যা মনোরম ভূমধ্যসাগরীয় সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। অঞ্চলটি ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের কাছ থেকে নিবেদিতচিত্তে সহায়তা পেয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সুবিধাজনকভাবে সমতল করেছে। সম্ভবত গাজা শহর এক দিন তাঁর নিজস্ব ট্রাম্প টাওয়ারকে অনুসরণ করতে পারে?

 

এরই মধ্যে গাজার প্রতি ট্রাম্পের অত্যাচারী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর বর্বর অহংবোধের সঙ্গে যুক্ত, যা তিনি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও বিস্তৃত করেছেন।
স্পষ্টতই এখানে এটি বলা হচ্ছে না, বাইডেন ও তাঁর সহকর্মী ডেমোক্রাটরা তাদের নিজেদের দানবীয় নীতি অনুসরণ করেননি। কিন্তু গাজায় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ভূমি দখল প্রাচ্যবাদী মনোবিকারের এক ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ, স্বতঃস্ফূর্তভাবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পুনরায় আঁকার তৎপরতা। অন্তত জেনোসাইড কনভেনশনের গণহত্যার সংজ্ঞা অনুসারে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরা’য় জায়গা করে নিতে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতকে কেবল গণহত্যামূলক আচরণের ধারাবাহিকতা বলে মনে হয়।

 

২০২৩ সালের অক্টোবরে সর্বাত্মক গণহত্যা শুরু হওয়ার আগেও যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ইসরায়েলের নিয়মিত গণহত্যা, সন্ত্রাসবাদ ও সাধারণ নিপীড়নের সুবিধার্থে কয়েক দশক ধরে ব্যয় করেছে। এখন ট্রাম্প ইসরায়েলে কিছু ভারী বোমা সরবরাহের ব্যাপারে বাইডেনের অতিমাত্রায় স্থগিতাদেশ উল্টে দিয়েছেন, যা ‘নরক’ উপশম করার ক্ষেত্রে খুব বেশি কাজে দেবে না।
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি গাজাকে ‘শুধু পরিষ্কার’ করতে চান। এটি এমন এক মিশন, যার মনোমুগ্ধকর ফ্যাসিবাদী বলয় নেতানিয়াহু ও তাঁর লোকদের কানে সংগীত শোনায়। আর ট্রাম্প যেভাবে বিশ্ব মানচিত্রকে এক ধাক্কায় পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন, এতে তাঁর স্ব-সংজ্ঞায়িত ‘খুব স্থিতিশীল প্রতিভা’ থেকে এর চেয়ে কম কিছু আশা করা উচিত ছিল না।

 

সুত্রঃ আল জাজিরা

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউক্রেন যুদ্ধসহায়তা বন্ধ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—ইঙ্গিত ট্রাম্প জুনিয়রের

বড়লেখায় নিসচা’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবার পেল ছাগল

দুই কেলেঙ্কারিতে চাপে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, উঠছে পদত্যাগের দাবি

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার পর জাপানে বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ উন্মোচন

ফিফার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ, ফুটবল বিশ্বকাপে গুরুতর বিতর্ক

আমিরুলের হ্যাটট্রিকের দিনে বাংলাদেশে উৎসব, দক্ষিণ কোরিয়া পরাজিত

ইউরোপে বড় ধরনের জরিমানার কবলে এক্স, পরিমাণ ১৪ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত, তালিকায় যুক্ত হলো আরও ৩০টির বেশি দেশ

আমেরিকার ভিসা নীতিতে পরিবর্তন: ১৯ দেশের অভিবাসন স্থগিত, বাংলাদেশ নিরাপদ

বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

১০

মধ্যরাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসছে, হেলিকপ্টারে বিমানবন্দরে যাবেন খালেদা জিয়া

১১

পরিণাম

১২

বেগম জিয়ার চিকিৎসায় চীনের চার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায়

১৩

শুল্ক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ে ট্রাম্প-লুলার আলোচনা

১৪

ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাই বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

১৫

মোবাইল ফোন আটকের জের ধরে প্রধান শিক্ষককে হত্যার চেষ্টা, প্রাক্তন ছাত্র গ্রেফতার

১৬

বড়লেখায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীদের অবস্থান ধর্মঘট ও সমাবেশ

১৭

আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ: কর্মী ছাঁটাই ও বাজেট কমানোর ঘোষণা

১৮

ভিএআর ব্যবস্থায় বড় সংস্কার- ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফার নতুন উদ্যোগ

১৯

শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই, খালেদা জিয়াকে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

২০