বাংলা সংবাদ ডেস্ক
৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনা কি এবার বাতিল করল রাশিয়া

প্রায় তিন বছর ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে একটি পরিকল্পনা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাতে বলা হয়েছিল, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোয় ইউক্রেনের সদস্যপদ না দেওয়ার বিনিময়ে রাশিয়াকে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। তবে ট্রাম্পের ওই পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমে এমন তথ্যই জানানো হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালছে, বরাবরই তার বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি। ক্ষমতায় বসার পর মাত্র এক দিনের মধ্যে এই যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতির জন্য তাঁর পরিকল্পনার মূল একটি শর্ত রাশিয়া পায়ে ঠেলার পর বিশ্লেষকদের অনেকের আশঙ্কা, নিজের শর্তমতো এই যুদ্ধের ইতি টানতে চাইছে মস্কো। চলুন, দেখে নেওয়া যাক ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কী ছিল, রাশিয়া এ নিয়ে কী বলছে এবং কেন তারা এ পরিকল্পনা বাতিল করল।

 

উক্রেন নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা কী
ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ কিছু সামনে আনেননি ট্রাম্প। গত সেপ্টেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আপনাকে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাতে পারছি না। কারণ, যদি জানাই, তাহলে সেগুলো কাজে লাগাতে পারব না। সেগুলো ব্যর্থ হবে। তবে মার্কিন নির্বাচনের পরদিন গত ৬ নভেম্বর সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা অংশ হিসেবে ন্যাটোয় ইউক্রেনের সদস্যপদ পাওয়া ২০ বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হবে।

 

ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত সেপ্টেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে কথা বলেছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বর্তমানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যে সীমান্ত রয়েছে, সেখানে একটি ‘অসামরিক অঞ্চল’ গড়ে তোলা হবে, যেন রাশিয়া নতুন করে হামলা চালাতে না পারে। এ ছাড়া পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইউক্রেনে রাশিয়ার দখল করা কিছু অংশ কিয়েভকে ছেড়ে দিতে হবে বলেও জানান ভ্যান্স। এর মধ্যে রয়েছে লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের কিছু অংশ।

 

এক গণভোটের মাধ্যমে এই অঞ্চলগুলো এরই মধ্যে রাশিয়া তার নিজ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। গত ২৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল কেইথ কেলগকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিজের বিশেষ দূত হিসেবে মনোনীত করেন ট্রাম্প। এর আগে গত এপ্রিলে একটি কৌশলপত্র লিখেছিলেন তিনি। তাতে বলা হয়েছিল, কিয়েভ যদি মস্কোর সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে যেতে রাজি হয়, তাহলেই কেবল ইউক্রেনকে অস্ত্রসহায়তা দিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। ওই কৌশলপত্রে আরও বলা হয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্য রাশিয়া যদি শান্তি আলোচনায় অংশ নেয়, তাহলে দেশটির ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আপাতত ইউক্রেনের সদস্য হওয়ার পথ বন্ধ রাখতে পারে ন্যাটো।

 

রাশিয়া কী বলেছে?
যুদ্ধবিরতির চুক্তির জন্য শুধু ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ না দেওয়াটা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিন। ২৬ ডিসেম্বর বছর শেষ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও ন্যাটোয় ইউক্রেনের সদস্যপদ পাওয়া ১০ থেকে ১৫ বছর পেছানোর কথা বলেছিলেন। সাংবাদিকের করা এক প্রশ্নের জবাবে সেদিন পাল্টা প্রশ্ন করে পুতিন বলেছিলেন, ‘আজ, কাল বা ১০ বছর—এটা আমাদের জন্য কিই–বা পরিবর্তন আনবে?’ এরপর গত রোববার রুশ বার্তা সংস্থা তাসের খবরে বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও পুতিনের মতো ট্রাম্পের প্রস্তাব নাকচ করেছেন।

 

তাসকে লাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধিদল যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে ন্যাটোয় ইউক্রেনের সদস্যপদ ২০ বছর পেছানোর কথা বলেছে। এ ছাড়া ইউক্রেনে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের শান্তি রক্ষার জন্য মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এসব প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয় রাশিয়া। ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ইঙ্গিত পাননি বলেও জানিয়েছেন লাভরভ। তাঁর ভাষ্যমতে, আগামী ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তার আগপর্যন্ত মস্কোর সঙ্গে যেকোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক কার্যকলাপের বৈধতা রয়েছে শুধু বাইডেনের বিদায়ী প্রশাসনের।

 

রাশিয়া কী করবে
ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে পুতিন ‘ধাপ্পাবাজি’ করছেন বলে মনে করেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের রাশিয়া অ্যান্ড ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের সহযোগী টিমোথি অ্যাশ। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, পুতিন একটি চুক্তিতে যেতে চান। কারণ, এত মানুষ নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ এই যুদ্ধে টিকে থাকার সক্ষমতা নেই তাঁর। আর জেডি ভ্যান্স যেমনটি বলেছেন, সে অনুযায়ী যদি ইউক্রেনে নিজেদের দখলে থাকা এলাকাগুলো রাশিয়া চূড়ান্তভাবে দখলে রাখার প্রস্তাব পায়, তাহলে তা গ্রহণ করতে পারে মস্কো।

 

টিমোথি অ্যাশ বলেন, ট্রাম্প শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। অপর দিকে পুতিনের অবস্থান দুর্বল। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধে টিকে থাকতে পারবেন। কারণ, এই যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয় করে। আর এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হতাহত হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। আশা করা যাচ্ছে, ট্রাম্প এটা বুঝবেন।

 

সুত্রঃ আল জাজিরা

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইউক্রেন যুদ্ধসহায়তা বন্ধ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—ইঙ্গিত ট্রাম্প জুনিয়রের

বড়লেখায় নিসচা’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবার পেল ছাগল

দুই কেলেঙ্কারিতে চাপে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, উঠছে পদত্যাগের দাবি

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার পর জাপানে বিওয়াইডি সিলায়ন ৬ উন্মোচন

ফিফার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ, ফুটবল বিশ্বকাপে গুরুতর বিতর্ক

আমিরুলের হ্যাটট্রিকের দিনে বাংলাদেশে উৎসব, দক্ষিণ কোরিয়া পরাজিত

ইউরোপে বড় ধরনের জরিমানার কবলে এক্স, পরিমাণ ১৪ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত, তালিকায় যুক্ত হলো আরও ৩০টির বেশি দেশ

আমেরিকার ভিসা নীতিতে পরিবর্তন: ১৯ দেশের অভিবাসন স্থগিত, বাংলাদেশ নিরাপদ

বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ভর্তিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

১০

মধ্যরাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসছে, হেলিকপ্টারে বিমানবন্দরে যাবেন খালেদা জিয়া

১১

পরিণাম

১২

বেগম জিয়ার চিকিৎসায় চীনের চার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায়

১৩

শুল্ক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ে ট্রাম্প-লুলার আলোচনা

১৪

ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাই বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

১৫

মোবাইল ফোন আটকের জের ধরে প্রধান শিক্ষককে হত্যার চেষ্টা, প্রাক্তন ছাত্র গ্রেফতার

১৬

বড়লেখায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীদের অবস্থান ধর্মঘট ও সমাবেশ

১৭

আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ: কর্মী ছাঁটাই ও বাজেট কমানোর ঘোষণা

১৮

ভিএআর ব্যবস্থায় বড় সংস্কার- ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফার নতুন উদ্যোগ

১৯

শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই, খালেদা জিয়াকে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

২০