চলতি বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ছয় দেশের আট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৬ হাজার ৪৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ওমান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জিটুজি মেয়াদি চুক্তির আওতায় এ তেল কেনা হবে। গতকাল অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ক্রয় কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, ২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের প্রিমিয়াম ও রেফারেন্স প্রাইস অনুযায়ী জ্বালানি তেল কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। এক্ষেত্রে ওমানের ওকিউটি, মালয়েশিয়ার পিটিএলসিএল ও আইওসিএল, থাইল্যান্ডের পিটিটিটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রো চায়না ও ইএনআইপিইসি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপির কাছ থেকে জিটুজি মেয়াদি চুক্তির আওতায় এ তেল কেনা হবে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ওমান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে সম্ভাব্য কী পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে তার প্রিমিয়াম এবং প্রাইসসহ একটা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৮ জুন বিভিন্ন তেলের যে দাম ছিল তাকে রেফারেন্স প্রাইস হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। প্রিমিয়াম বিভিন্ন জ্বালানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম। যেমন প্রতি ব্যারেল ডিজেলের প্রিমিয়াম ৮ দশমিক ৮০ ডলার, জেট ফুয়েল ১০ দশমিক ৮৮, ফার্নেস অয়েল ৪৬ দশমিক ৭২, অকটেন ৯ দশমিক ৮৮ ও মেরিন ফুয়েল ৭৬ দশমিক ৮৮ ডলার। এটা টেন্ডারে পাওয়া প্রিমিয়াম। তবে জিটুজি ভিত্তিতে দামে কিছুটা কমে পাওয়া গেছে। যেমন জিটুজি ভিত্তিতে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের প্রিমিয়াম ৮ দশমিক ৭৫ ডলার, ফার্নেস অয়েল ৪৬ দশমিক ৭০ ডলার। ছয়টি দেশ থেকে বিভিন্ন জ্বলানি পণ্য আমদানির জন্য রেফারেন্স প্রাইস এবং প্রিমিয়ামসহ আনুমানিক মূল্য বাংলাদেশী টাকায় ১৬ হাজার ৪৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ১৮ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য এ ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটা আনুমানিক মূল্য। প্রকৃত দাম নির্ধারিত হবে যেদিন কেনা হবে ওইদিন এবং তার আগের দুদিন ও পরের দুদিনসহ মোট পাঁচদিনের দামের গড় করে।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ক্রয় কমিটির সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জিটুজি ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের জন্য ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল ১৫ হাজার ৮২ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।
গত বছরের নভেম্বরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক ২০২৪ সালের জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়ে জিটুজি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মোট ৩৮ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ২৩ লাখ ৪০ হাজার টন, জেট ফুয়েল ৩ লাখ ৭৫ হাজার, মোগ্যাস ২ লাখ ৭৫ হাজার, ফার্নেস অয়েল ৭ লাখ ৫০ হাজার এবং ৬০ হাজার টন মেরিন ফুয়েল রয়েছে।
এদিকে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৪ সময়ের জন্য ৩০ হাজার টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ বিষয়ে সচিব মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, ‘সরকার মোট যে জ্বালানি তেল আমদানি করে তার ৫০ শতাংশ করে জিটুজি ভিত্তিতে। বাকি ৫০ শতাংশ স্পট মার্কেট থেকে কেনা হয়। নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে যে ডিজেল কেনা হবে তা জিটুজি প্রক্রিয়ায়। ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে এ ডিজেল শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোয় সরাসরি আমদানি হবে। প্রিমিয়ামসহ ৩০ হাজার টন ডিজেলের দাম হবে ২৭৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রতি ব্যারেলে প্রিমিয়াম হলো ৫ দশমিক ৫০ ডলার। আর রেফারেন্স প্রাইস ধরা হয়েছে চলতি বছরের ২৮ জুনের দাম।
গতকাল ক্রয় কমিটির সভায় আরো তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ডের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো (২০২৪ সালের ২৩তম) এলএনজি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।৷ এতে ব্যয় হবে ৫৮৩ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ৫২৮ টাকা। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ১২ দশমিক ৫৮ ডলার। এর আগে আমদানি করা প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল ১৩ দশমিক ৫৫৮ ডলার।
গতকালের সভায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় দুই লটে ৮০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৬০ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ২৭৫ দশমিক ৫০ ডলার।
মন্তব্য করুন