জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, “সিলেটের সন্তান ইলিয়াস আলীকে যে কারণে গুম করা হয়েছে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য, আমরা সেই ইলিয়াস আলীর পথেই চলি। আর আমাদের যেসব বন্ধুরা আজকে রাস্তায় আমাদের কর্মসূচির প্রতিবাদ করছে, তাদের উদ্দেশে বলব, আমাদের কাজ দেখে শেখো। রাস্তায় চিল্লাচিল্লি না করে আল্লাহর ওয়াস্তে সীমান্তে চলে যান, সীমান্ত পাহারা দিন। তখন বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন আপনারা ‘জিয়ার সৈনিক’। তা না হলে আপনারা কেবলই রাস্তার সৈনিক হয়ে থাকবেন।
রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, বিএনপি যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন না করে, তাহলে এই বিএনপি সরকারেরও পতন হবে। বিষয়টি তারেক রহমানকে গভীরভাবে বুঝতে হবে। রাজনৈতিকভাবে সংস্কারের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। গত নির্বাচনে দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের এই রায়ের বিরুদ্ধে যাওয়ার ক্ষমতা কোনো সরকারের নেই। সালাউদ্দিন ভাই যতই লাফালাফি করুন না কেন, তাতে কোনো লাভ হবে না। বাংলাদেশে কেবল সংশোধন নয়, প্রকৃত সংস্কারই বাস্তবায়িত হবে।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা ও আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, এই সরকারের অনেক সফলতা থাকতে পারে। কিন্তু সরকার যদি ভুল পথে চলে, তাহলে সেই সফলতা টেকসই হবে না। রেলগাড়ি ভুল লাইনে চললে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। এই সরকারের প্রথম পথ ছিল সংস্কারের পথ, কিন্তু তারা তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। সরকার যদি আবার সংস্কারের পক্ষে ফিরে আসে, তবে আমরা তা স্বাগত জানাব।

সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের যে গোপন চুক্তি হয়েছিল ভোট দেওয়ার জন্য, তা আজ জনগণের সামনে স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। বড়লেখার সীমান্তে গত রাতে বা তার আগের রাতেও ভারত থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হয়েছে। কিন্তু বড়লেখাবাসী সাহসিকতার সঙ্গে বিজিবির পাশে দাঁড়িয়ে সেই সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করেছেন। এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বড়লেখাবাসীকে লাল সালাম ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
স্থানীয় উন্নয়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই নেতা বলেন, বছরের পর বছর বড়লেখায় মন্ত্রী এমপি হলেও বড়লেখার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। অথচ এখানকার সুজানগর ইউনিয়নের আগর ও আতর শিল্পকে যদি সুপরিকল্পিত ও আধুনিক উপায়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে এটিই হবে দেশের সবচেয়ে ধনী উপজেলা। ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে এই আগর ও উদ শিল্প বিকাশের মাধ্যমে দেশেই মানসম্মত বেতনের ফ্যাক্টরি গড়ে তুলবে, যাতে আমাদের কলিজার টুকরো সন্তানদের লন্ডনে বা আমেরিকায় পাড়ি জমাতে না হয়।

উন্নয়নের অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ করা গেলে বাংলাদেশের নিজের টাকাতেই সব উন্নয়ন সম্ভব। আমরা সংঘাতের রাজনীতি নয়, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতা এমাদুল ইসলাম, ফয়ছল আহমদ, এনসিপির প্রীতম সহ স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর বড়লেখা সফরকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। তিনি বড়লেখা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার সময় শহরে প্রবেশের মুখে একদল বিক্ষোভকারী তাঁর উদ্দেশে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরবর্তীতে বড়লেখা-কুলাউড়া সড়কের দক্ষিণবাজার এলাকায় তাঁর গাড়িবহরের গতিরোধের চেষ্টা করা হলে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
মন্তব্য করুন