যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে দেশটির জনসংখ্যার একটি বড় অংশে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ২ লাখ। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি সাতজনের একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র তুলে ধরেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউএসএফ্যাক্টস। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ২৪ লাখ। এক দশকের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়ে ২০২৬ সালে ৫ কোটি ২ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে মোট জনসংখ্যার মধ্যে অভিবাসীদের অংশ ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।
রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসীদের হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে মোট জনসংখ্যার ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ বিদেশে জন্ম নেওয়া। এরপর রয়েছে নিউ জার্সি ২৫ শতাংশ, নিউইয়র্ক ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ, ফ্লোরিডা ২৩ দশমিক ১ শতাংশ, নেভাডা ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ, ম্যাসাচুসেটস ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ, হাওয়াই ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ, টেক্সাস ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ, মেরিল্যান্ড ১৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং ওয়াশিংটন ১৬ দশমিক ১ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ বেশি থাকায় এসব এলাকায় অভিবাসীদের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে মায়ামিতে অভিবাসীদের হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে কিছু ছোট শহরে এই হার ১ শতাংশেরও নিচে রয়েছে।
অর্থনীতিতেও অভিবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিষেবা, নির্মাণ, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে অভিবাসীরা শ্রমশক্তি হিসেবে বড় অবদান রাখছেন। তাদের মতে, অভিবাসন শুধু জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমঘাটতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসী–আকর্ষণকারী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। প্রতি সাতজনের একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া হওয়ায় দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে অভিবাসীদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরগুলোতে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা দেশটির অভিবাসন নীতি ও জনসংখ্যাগত কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য করুন