
রাজধানী শহর ঢাকার বৃহত্তর আগারগাঁও-মিরপুরে বসবাসরত পর্যটনপ্রিয় বন্ধুদের সমন্বয়ে গঠিত “আমরা ভ্রামণিক” সংগঠনের উদ্যোগে গত ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় নৌভ্রমণ ২০২৪। তুরাগ নদীতে দিনব্যাপী এ আয়োজন ছিলো নানা বৈচিত্রে ভরপুর। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সকাল ৮ ঘটিকা হতে মিরপুর বেড়িবাঁধ রিভারভিউ পয়েন্ট সংলগ্ন নবাবের বাগ নৌকা ঘাটে নৌভ্রমণে অংশগ্রহণকারী সকলেই সমবেত হন। সকালের নাস্তা পরিবেশনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক নৌযাত্রা শুরু হয়। তুরাগ নদীর বুকে নৌকা চলতে থাকে সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত। দুপুরে মৌসুমী ফল কাঁঠাল সকলের মাঝে বিতরণ করা হয়। নৌপথে নদীর দুপাশের সৌন্দর্যরূপ উপভোগ করেন অংশগ্রহণকারীরা। আশুলিয়া ব্রীজ ঘুরে নৌকা সাভার উপজেলাধীন বিরুলিয়ার দেউল ষাট ফিট নৌকা ঘাটে নোঙর করে। জুম্মার নামাজের বিরতি শেষে উত্তরা ভিউ প্রজেক্ট অফিস সংলগ্ন দেউল ষাট ফিট নদীর পারে দুপুরের খাবারের জন্য রান্নার ব্যবস্থা করা হয়।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্য হতে রান্নার কাজে নেতৃত্ব দেন ওয়াসিম রানা ও মোঃ মাহবুবুর রহমান খান জুয়েল। অন্যান্যরা সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন। রান্না শেষে সারিবদ্ধভাবে নৌকার ছাদে বসে খাবার খেয়ে নেন সকলে। তুরাগ নদীর বুকে চলন্ত নৌকায় বসে খাবার খাওয়া আয়োজনে ভিন্নমাত্রা এনে দেয়। খাবারের আকর্ষণীয় দিক ছিলো রাজহাসের মাংস। মুখরোচক খাবার খেয়ে সকলেই পরিতৃপ্ত।
বৃষ্টি ঝরা সকাল শেষে রৌদ্রোজ্জ্বল দুপুর গড়িয়ে সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে হেলান দিচ্ছে এমন সময়ে নৌকা এসে থামে জনপ্রিয় পর্যটন স্পট তুরাগ দ্বীপে। বিকালবেলা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত এ দ্বীপে আনন্দমুখর সময় অতিবাহিত করেন উপস্থিত সকলে। চারপাশের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে।
আবারও নৌকা ছুটে চলে তুরাগ নদীতে। চলমান নৌকায় সাঈদ আরেফিন অপুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় র্যাফেল ড্র। পঞ্চাশ টাকা মূল্যে কেনা লটারিতে অনেকেই জিতে নেন সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বে জনপ্রিয় সংগীত পরিবেশিত হয়। ঢপকি বাজিয়ে সংগীত পরিবেশন করেন মোঃ ওয়াসিম রানা। সকলেই গানের সুরে কন্ঠ মেলান। সূর্য বিদায়ের বর্ণিল মুহূর্তে সুরের মূর্ছনা মোহনীয় পরিবেশ তৈরি করে। সবশেষে সকলের মাঝে সুস্বাদু মিষ্টি-লাড্ডু পরিবেশন করা হয়।
আয়োজক সংগঠন “আমরা ভ্রামণিক”-এর পক্ষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন মোঃ গোলজার আহমেদ। অংশগ্রহণকারী সকলের সার্বিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যগত কারণে, শিক্ষার প্রয়োজনে, সাংস্কৃতিক বিকাশে এবং মননের পুষ্টিতে ভ্রমণ অতীব জরুরি। ব্যক্তিজীবনের নান্দনিকতা স্ফূর্তির জন্য ভ্রমণ অপরিহার্য।” তিনি আরও বলেন, “ভ্রমণের জন্য অর্থ ব্যয় করে কেউ গরিব হয় না। বরং শরীর ও মনের দিক থেকে আরও ধনী ও ঋদ্ধ হয়। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে জ্ঞানস্পৃহা বৃদ্ধি পায় ভ্রমণে। জীবন হয় উপভোগ্য ও আলোকিত। ভ্রমণ মানুষের সাহস, অভিজ্ঞতা ও ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধি করে । ভ্রমণ করলে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার কৌশল করায়ত্ত হয়। ফলে ভ্রমণের গুরুত্ব অপরিসীম ও বহুমাত্রিক।”
প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ আয়োজন বিষয়ে গোলজার আহমেদ জানান, “কর্মক্ষেত্রে স্পৃহা তৈরি এবং বন্ধুদের মধ্যে দৃঢ় বন্ধন তৈরিতে আমরা নিয়মিত এমন উদ্যোগ গ্রহণ করি, এবারের নৌভ্রমণ তারই অংশ।”
এবারের নৌভ্রমণে অংশ নেন মোঃ আল আমিন (জুয়েল), ডেনি পিনারো, শেখ মোঃ আব্দুল জামাল (রিংকু), কাজী শাহাদাত (রোমান), মোহাম্মদ সোহেল রানা, মোঃ সাঈদ আরেফিন (অপু), মোঃ মিজানুর রহমান, মঞ্জুর হোসেন সোহেল, আবুল কাসেম, রাজু ভূইয়া, রেজাউল করিম (রিয়াজ), মোঃ ওয়াসিম রানা, মোঃ মিজানুর রহমান (মিন্জু), মোঃ মোশারফ হোসেন (নিবির), মোঃ আলম, মোঃ সোহাগ, মোঃ মিনারুল ইসলাম, মোঃ জুয়েল খাঁন, মোঃ শাহাদাত হোসেন, মোঃ মাইনুল ইসলাম অনিক, মোঃ মাহমুদুল হাসান (মনির), কাজী আব্দুল মোন্নাফ (রিয়াজ), সৈয়দ সামিউল ইসলাম (কামরুল), জহিরুল হক (জহির), ইমরান হাসান রাজু, মোঃ গোলজার আহমেদ, মোঃ মোফাশ্বের হোসেন বিপুল, মোঃ শওকত ইমরান শুভ, মোঃ ইমরান হোসেন, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহাবুব মিঠু, মোঃ মাহবুবুর রহমান খান জুয়েল, নূরে আলম সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান তুহিন, প্রমুখ। নৌভ্রমণে নৌকা মাঝি ছিলেন মোঃ সালাউদ্দিন এবং সহকারী মাঝি মোঃ তানভীর।
মন্তব্য করুন