নিউজ ডেস্ক
১০ অগাস্ট ২০২৪, ৪:১৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনা আমাদের জোরজবরদস্তি করে গণভবনে নিয়ে যান

কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের পরিবারকে জোরজবরদস্তি করে গণভবনে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার বড় ভাই রমজান আলী। শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথা বলার পর গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।

 

ড. ইউনূসের সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে রমজান আলী বলেন, তিনি (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আমাদের পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। শেখ হাসিনা জোরজবরদস্তি করে আমাদের গণভবনে নিয়ে যান, আর ইনি (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বাসায় আসছেন। এটা তো আমাদের সৌভাগ্য। আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ছেলের নামে সরকারি হাসপাতাল চেয়েছি। যাতে মানুষ বিনামূল্যে ওষুধ পায়। একটা মসজিদের দাবি জানাইছি। রাস্তা-কলেজের নামকরণ করতে বলছি। তার নামে যেন মাদরাসা হয়। আর ছেলে হত্যার বিচার চাইছি। উনি সব করবেন বলে কথা দিছেন। শুধু আজ নয়, সব সময় পাশে থাকবেন। উনি অনেক ভালো মানুষ।

 

আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর হৃদয়বিদারক কান্না আর আহাজারি করেন তার বোন সুমি আক্তার। বিশ্ব দরবারে তার আহাজারিতে লাখো মানুষের চোখ ভিজেছে। সেই সুমি আক্তার বলেন, স্যারের কাছে আমার ভাইকে যে হত্যা করেছে তার ফাঁসি চাইছি। এর পেছনে যারা আছে, যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের ফাঁসি চাইছি। আমার ভাইয়ের মতো যারা আন্দোলনে মারা গেছে, তারা যেন ন্যায্যবিচার পায়। আবু সাঈদের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা ক্যাম্পাস, মসজিদ-মাদরাসা, রাস্তা, কালভার্ট যেন তৈরি করা হয়। আমার ভাইকে যেন শহীদ মর্যাদা দেওয়া হয়। আমরা এই দাবিগুলো উপস্থাপন করছি। উনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সবগুলো বাস্তবায়ন করবেন। আবু সাঈদের আরেক ভাই হোসেন আলী বলেন, এতদিন ভয়ে আমরা কিছু বলতে পারিনি। তারপরও আমাদের বিষয়টা অনেকে জানে। আমরা তো গণভবনে যেতাম না, যদি প্রশাসন থেকে আমাদের ওপর চাপ দেওয়া না হতো। আজকে নতুন বাংলাদেশের নতুন সরকার আমাদের বাড়িতে এসে খোঁজখবর নিয়েছে। এটাই তো বড় পাওয়া। আমরা চাই সাঈদের আত্মত্যাগের যেন মূল্যায়ন হয়। তার খুনিদের যেন বিচার হয়।

 

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনে সামনের সাড়িতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আবু সাঈদ। গত ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন পার্ক মোড়ে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। পরদিন ১৭ জুলাই তাকে পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন আবু সাঈদ। তাকে প্রকাশ্যে গুলি করার দৃশ্য দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে সারা দেশে আন্দোলন নতুন মাত্রা খুঁজে পায়। সাহসের সঞ্চারে ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট ক্ষমতার মসনদ ছেড়ে গণভবন থেকে ভারতে পালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশত্যাগের সময় শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন, যা সেনাপ্রধান ওইদিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে দেশবাসীকে অবগত করেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একুশে পদক পেলেন ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ড দল

বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতি মিশিগান এর বর্ণাঢ্য ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্টিত

কমলগঞ্জে ফিল্মি কায়দায় নারীকে অপহরণের চেষ্টা

বিশ্ববাজারে তেলের দামে উর্ধ্বগতি, ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

দুবাইয়ে বোমা হামলায় নিহত বড়লেখার প্রবাসী সালেহ আহমদকে দাফন, গ্রামে শোকের মাতম

ইতিহাসের প্রান্তরে অমলিন পদচিহ্ন: জর্জ ওয়াশিংটন

বাংলাদেশে এ বছর ফিতরা কত?

তাহাজ্জুদ নামাজ নবীজি (সা.) এর অতি প্রিয় আমল

জাকাত কারা পাবেন আর কারা পাবেন না?

তুরস্কে নিরাপত্তা শঙ্কা, নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

১০

রমজানে যেভাবে কাটত নবীজির দিনকাল

১১

নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

১২

দাপুটে পারফরম্যান্সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত

১৩

বাঙালি কমিউনিটির বিস্তার, সাফল্য এবং সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ সংগঠন বাড়ছে, ঐক্য কি বাড়ছে?

১৪

নতুন অভিবাসীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে ডেট্রয়েটের বাংলাটাউন

১৫

মিশিগানে জৈন্তাপুর ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের দোয়া ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

১৬

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে গ্রেপ্তার

১৭

‘শিগগিরই কিউবার পতন’: ট্রাম্পের মন্তব্যে বিতর্ক

১৮

বড়লেখায় নিসচা’র আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল মিলনমেলায় পরিণত

১৯

উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরেছেন ২০ হাজার মার্কিন নাগরিক: স্টেট ডিপার্টমেন্ট

২০