যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। আর্চি স্পিগনার পার্কে আয়োজিত দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। রোববার (৭ জুন ২০২৬) অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি অংশ নেন। দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার, পোশাক এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগের সমন্বয়ে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের মূলধারার রাজনীতিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এমন বৃহৎ আয়োজনকে কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে অতিথিদের উত্তরীয় ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোমা সৈয়দ, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লিরয় কমরি, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন লিউ, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ওম্যান অ্যালিসিয়া এল. হাইন্ডম্যান, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের এমডব্লিউবিই অফিসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার দিলীপ চৌহানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।
এ ছাড়া ডেমোক্র্যাট কুইন্স কাউন্টি মেম্বার ফাহাদ সোলাইমান, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের ডাইরেক্টর অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী, উৎসব গ্রুপের চেয়ারম্যান রায়হান জামানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মেলা প্রাঙ্গণে খাবার, পোশাক, গহনা, লাইফস্টাইলসহ বিভিন্ন পণ্যের ১১৩টি স্টল ছিল। দর্শনার্থীরা দেশীয় খাবার, ফ্যাশন সামগ্রী ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক পণ্য উপভোগ করেন। শিশুদের জন্য বিশেষ কিডস জোনও ছিল, যা পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাদিয়া খন্দকার ও মুক্তা হকের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে সংগীত পরিবেশন করেন প্রতীক হাসান, নাজু আখন্দ, ডিজে রাহাত, পারভেজ সাজ্জাদ, তৃনিয়া হাসান, কামরুজ্জামান বকুল, সুজন আরিফ ও রেশমি মির্জা। তাদের পরিবেশনায় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। উৎসব গ্রুপ জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রবাসী কমিউনিটির পারস্পরিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে।
এই বৃহৎ আয়োজনে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ছিল হিলসাইড হোন্ডা, উৎসব গ্রুপ ও সিলেক্ট ডিলার সার্ভিস। পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর হিসেবে ছিল আশা হোম কেয়ার ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার। প্ল্যাটিনাম স্পন্সর হিসেবে ছিল প্রেমস কালেকশন, ফ্রেশ ফুড, মোতেজেদি সিপিএ পি.সি. ও কেএ এক্সিডেন্ট ল অফিস অব কিম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস পি.সি.।
গোল্ড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেছে ওয়াও এক্সপ্রেস, জে১ ড্রাইভার্স ট্রেনিং, জমজম ট্রাভেল ইউএস, টেসলা টেক অটো বডি শপ, নুরুজ্জামান সরদার, তাসমিয়াহ এ. চৌধুরী ও জাকির এইচ. চৌধুরী, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, সরওয়ার খান, ধানসিঁড়ি, সিটি লাইন, বুন কাবাব ওয়ালা এবং কাবাব বয়েজ। মেলার গুডউইল পার্টনার ছিল বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন ও উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স।
মন্তব্য করুন