৭ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে আপনজনদের কাছে ফিরতে বিমানে অসুস্থ হয়ে না ফেরার দেশে ফাঁড়ি জমানো ফখরুল ইসলামের মৃতদেহ দেশে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন নিহতের বাবা-মা ও স্ত্রী। ইতিমধ্যে ফখরুল ইসলামের স্ত্রী হাফসা খানম সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
এদিকে খোঁজ খবর নিতে নিহতের বাড়িতে স্বজনদের ভিড় অব্যাহত রয়েছে। স্বজনদের জড়িয়ে বাবা-মা ও স্ত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ও বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। এখন তাদের একটাই চাওয়া কখন বাড়িতে আসবে ফখরুলের মরদেহ। ফখরুল ইসলাম মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার মহুবন্দ এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে।
নিহত ফখরুল ইসলামের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফখরুল ইসলাম প্রায় ৭ বছর পর ইটালি থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে ১৭ জুন তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ওঠেন। বিমানে আকস্মিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিমানটি জর্জিয়ার (দুবাইয়ের পার্শবর্তী ছোট্ট দেশ) তিবিলিসি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সেখানকার ইউনিভার্সিটি হসপিটালে তাকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রেমিট্যান্সযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম (৩৯)।
ফখরুল ইসলামের খালাতো ভাই জানান, মঙলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১ টায় জর্জিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এখন লাশ দেশে আনার ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে । পাশাপাশি তিনি সরকারের বিশেষ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছেন। নিহত ফখরুল ইসলামের স্ত্রী হাফসা খানম জানান, বর্তমানে মরদেহ উক্ত হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। স্বামীর লাশ দেশে আনার মতো আর্থিক অবস্থা তাদের পরিবারের নেই। সরকারিভাবে মরদেহটি দেশে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিলে হয়তো শেষবারের মতো স্বামীর মূখ দেখা হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যদি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে, তবে সেখান থেকে মরদেহ গ্রহণ করতে পারবেন।
ফখরুল ইসলামের লাশ শেষবারের মতো দেখতে আকুতি জানাচ্ছেন স্বজনরা। নিজ জন্মভূমিতে তাকে দাফন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী এমপি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মালিক বলেন, ফখরুল ভদ্র ও পরিশ্রমী ছিল। তার এমন মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক। আমরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফেরানোর চেষ্টায় আছি।
ফখরুল ইসলামের মরদেহ দেশে পৌছানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদের সাথে আলোচনা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করবেন এবং যাতে মরদেহ দ্রুত দেশে পৌছাতে পারে সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম বলেন, ফখরুল ইসলাম দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্ত্রীসহ ৪ বছরের ছেলে রয়েছে। তার হৃদয় বিদারক মৃত্যুতে পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় হয়ে গেলো। তাদের একমাত্র স্বপ্ন ছিল ফখরুলকে ঘিরে। এখন তার মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকা শোকাহত। তার লাশ দেশের মাটিতে ফেরত পেতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই। ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব জানান, ঘটনাটি খুবই হৃদয় বিদারক। এব্যাপারে সরকারি কোনো নির্দেশনা এখনও তিনি পাননি। সরকারি নির্দেশনা পেলে পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
মন্তব্য করুন