ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের ক্ষেত্রে নরওয়ের যুক্তির অন্যতম ভিত্তি হলো ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফিফা ও উয়েফার নেওয়া পদক্ষেপ।
ইসরায়েলকে ফিফা থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ করার দাবিতে ফুটবলে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগাচ্ছে নরওয়ে। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) এবং এর সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস ইউরোপীয় ফুটবলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি মূলধারায় আনতে কাজ করছেন। উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য ক্লাভেনেস একতরফা বয়কটের বদলে ফিফা ও উয়েফার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই এ দাবি তুলছেন।
গত বছর তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইসরায়েলকে সাময়িক নিষিদ্ধ করা উচিত। এটি নিয়মকানুন রক্ষার বিষয়।’ তবে গত অক্টবোরে অসলোতে নরওয়ে-ইসরায়েল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ বয়কট না করার কারণ হিসেবে তিনি জানান, এতে ইসরায়েল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়ে যোগ্যতা অর্জনের সুবিধা পেতে পারত। পরে সেই ম্যাচে নরওয়ে ৫-০ গোলে জেতে। ম্যাচে দর্শকরা ফিলিস্তনের পতাকা প্রদর্শন করেন আর কিফায়া পরিধান করেন। তারা মাঠে ‘শিশুদের বাঁচতে দাও’ লেখা বড় ব্যানারও প্রশর্ন করেন। পাশাপাশি, স্টেডিয়ামের বাহিরে হাজারো মানুষ ইসরায়েলকে ফিফা থেকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের ক্ষেত্রে নরওয়ের যুক্তির অন্যতম ভিত্তি হলো ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফিফা ও উয়েফার নেওয়া পদক্ষেপ। তখন রাশিয়ার জাতীয় ও ক্লাব দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হলেও, গাজায় সামরিক অভিযানের পরও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যাচ্ছে। ক্লাভেনেস ও তার সমর্থকদের দাবি, এটি একই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণের উদাহরণ।
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ২০২৪ সালে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার আনুষ্ঠানিক আবেদন করে। তাদের অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনি ও আরব খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণ ফিফার বিধিমালার লঙ্ঘন। এদিকে গত মার্চে ফিফা পশ্চিম তীরের বসতিভিত্তিক ক্লাবগুলোর কারণে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবে বৈষম্য ও আপত্তিকর আচরণসংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের দায়ে সংস্থাটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করে।
একই সঙ্গে বৈষম্য প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ম্যাচে বৈষম্যবিরোধী ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেয় ফিফা।
মন্তব্য করুন