ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শুরু থেকে নকআউট পর্ব পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি ম্যাচের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক নাটকীয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অঘটনে ভরা আসরের চিত্র। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী দলগুলোর আধিপত্যের পাশাপাশি কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ফলাফলও টুর্নামেন্টের গতিপথ বদলে দেয়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ লড়াই পেরিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল তিনটি করে ম্যাচ খেলেছে। সেখান থেকে সেরা দলগুলো নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে কানাডা, জাপানকে হারিয়ে ব্রাজিল, সুইডেনকে হারিয়ে ফ্রান্স, ইকুয়েডরকে হারিয়ে মেক্সিকো, ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে ইংল্যান্ড, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে স্পেন, ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে পর্তুগাল, কেপ ভার্দেকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা, ঘানাকে হারিয়ে কলম্বিয়া, আলজেরিয়াকে হারিয়ে সুইজারল্যান্ড এবং সেনেগালকে হারিয়ে বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে যায়। অন্যদিকে জার্মানি-প্যারাগুয়ে, নেদারল্যান্ডস-মরক্কো, অস্ট্রেলিয়া-মিসর এবং সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়ার কয়েকটি ম্যাচ টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ায় প্রতিযোগিতার উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
শেষ ষোলোতে সবচেয়ে বড় চমকের জন্ম দেয় নরওয়ে। ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। একই পর্বে ইংল্যান্ড মেক্সিকোকে, স্পেন পর্তুগালকে, বেলজিয়াম যুক্তরাষ্ট্রকে, ফ্রান্স প্যারাগুয়েকে, মরক্কো কানাডাকে এবং আর্জেন্টিনা মিসরকে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে। সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে সুইজারল্যান্ড জয় তুলে নেয়।
কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ২-০ গোলে মরক্কোকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠে। স্পেন ২-১ ব্যবধানে বেলজিয়ামকে হারায়। ইংল্যান্ড ১-০ গোলে নরওয়ের স্বপ্নভঙ্গ করে এবং আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে বিদায় জানিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয়।
সেমিফাইনালে স্পেন ২-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথম ফাইনালিস্ট হয়। অপর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা লড়াই নিশ্চিত করে। ফলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে, আর বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ফাইনালে শিরোপার জন্য লড়বে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।
প্রকাশিত ফলাফলের সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। একই সঙ্গে মরক্কো, নরওয়ে, কানাডা ও প্যারাগুয়ের মতো দলও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করে আলোচনায় উঠে আসে। টাইব্রেকারে একাধিক ম্যাচের নিষ্পত্তি এবং নকআউট পর্বে কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ফল বিশ্বকাপ ২০২৬-কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসরে পরিণত করেছে।
সূত্র: FIFA
মন্তব্য করুন