বাফেলোর শরৎ
হাবিব ফয়েজি
হাওয়ার ভেতর একটি শহর
শরৎ এলে বাফেলো
তার সবুজ নামটি ভুলে যায়
গাছেরা তখন একে একে
নিজেদের পুরোনো চিঠি
রাস্তার ডাকবাক্সে ফেলে যায়
ম্যাপল পাতার ভেতর
লাল হয়ে ওঠে কোনও গোপন ক্ষত,
বার্চের সাদা গায়ে
হাওয়া লিখে যায়
অদৃশ্য কোনও বর্ণমালা
লেক ইরি তখন
জলের চেয়ে বেশি কিছু-
যেন এক বিশাল ধাতব দরজা,
যার ওপারে সারাদিন
আকাশ নিজের মুখ খুঁজে ফেরে…
ঢেউ আসে,
ফিরে যায়,
আবার আসে—
যেন জলও জানে
কিছু বিদায় কখনো সম্পূর্ণ হয় না…
সকালের কুয়াশা
লেকের বুক থেকে উঠে
শহরের গলিতে গিয়ে বসে;
স্ট্রিটলাইটগুলো তখন
ঘুম না-ভাঙা জোনাকির মতো
দিনের আলোতেও জ্বলতে থাকে
ফুটপাথের ওপর
পাতারা আর পাতা থাকে না-
তারা হয়ে যায়
হাজার ছোট ছোট হলুদ নৌকা,
যাদের কোনো নদী নেই,
তবু বাতাস তাদের
দূরের দিগন্তে নিয়ে চলে
কোনও অচেনা বাড়ির উঠোনে
একটি আপেল পড়ে থাকে-
তার লাল চামড়ার নিচে
পুরো শরৎ যেন
ধীরে ধীরে পেকে উঠছে
আর সন্ধ্যায়,
যখন বাফেলোর আকাশ
ধোঁয়া-নীল থেকে কালো হয়,
পাখিরা দল বেঁধে ফিরে যায়-
তাদের ডানার শব্দে
দিনের শেষ আলো
ভেঙে ভেঙে পড়ে
রাতে লেক ইরি
অন্ধকারকে পান করে;
দূরের আলো কাঁপে জলে-
মনে হয়,
কেউ যেন কালো কাগজে
সুঁই দিয়ে শহরের মানচিত্র আঁকছে
তারপর হাওয়া আসে
সেই হাওয়ায়
পাতার গন্ধ নেই শুধু-
আছে বরফের আগাম সংবাদ,
আছে দূর উত্তরের শীত,
আছে এমন এক নীরবতা
যার ভেতর দাঁড়ালে
নিজের হৃদস্পন্দনও
অচেনা শহরের শব্দ মনে হয়
বাফেলোর শরৎ
শুধু ঝরে পড়ার গল্প নয়
এ এক শহরের
নিজেকে ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করার প্রয়াস
গাছেরা পোশাক খুলে ফেলে!
লেক আয়না হারায়,
আকাশ নিচু হয়ে আসে
আর মানুষ,
নিজের ভেতরের আবহাওয়া নিয়ে
আরেকটু একা হয়ে হাঁটে!
পাতা ঝরে
হাওয়া বয়ে যায়
লেক অন্ধকার হয়
তবু কোথাও,
মাটির নিচে,
একটি অদৃশ্য বীজ
শীতের দীর্ঘ ঘুমের মধ্যে
বসন্তের প্রথম শব্দটি
মনে রাখে।
মন্তব্য করুন