চিঠি লিখি, ডাকবাক্সে হয় না ঢালা
আনোয়ার ইকবাল কচি
একানব্বই বছর বয়সি জমিলা বিবি
যেদিন ইন্তেকাল করলেন,
সেদিন উঠোন জুড়ে, শুধু মানুষ আর মানুষ!
মন্ত্রীর মা বলে কথা।
খাটিয়াতে সাদা কাপড়ে মোড়া লাশ
শিয়রে দাড়াতেই, মনে হল
আচমকা তাঁর
চোখের পাতা মেলে উঠলো,
ছানা পড়া ঘোলা চোখে ফুটে উঠলো
অনুযোগ,
সারাটা জীবন তুই
ডরপুকই রয়ে গেলি।
আমার চিঠি কই?
আমি ছিটকে সরে আসি।
জমিলা বিবিকে বলেছিলাম
তাকে আমি একটি চিঠি লিখেছি
তাতে জানতে চেয়েছি তিনি তার
রাজাকার পুত্রকে ঘৃনা করেন কি না।
তিনি সেই চিঠিটি পান নি।
পান নি কারণ, আমি লিখেছি
শুধু ডাকবাক্সে হয় নি ঢালা।
যেমন ঢালা হয় নি বহুদিন আগে
নাপামে ঝলসে যাওয়া
ভিয়েতনাম শিশুটির কাছে লেখা চিঠি।
ফেলে আসা স্বদেশে
স্বৈরাচারী শাসকের কাছে লেখা চিঠি।
কবে একদিন পত্রমিতালি করতে চেয়েছিলাম,
পালেস্টাইনের এক বালক যোদ্ধার সাথে।
তাকে লিখা ঢিঠিগুলোও পড়ে আছে অযতনে।
পড়ে আছে অযতনে
যৌবনে পেছন থেকে দেখা
নীল সালোয়ার কামিজের
মেয়েটিকে লেখা, ভালবাসার চিঠি।
কেবল, ডাকবাক্সে হয় নি ঢালা।
আশার চিঠি, ভালবাসার চিঠি
কষ্টের চিঠি, অভিশাপের চিঠি,
টেবিল জুড়ে স্তুপ হয়ে থাকে
রাশ রাশ চিঠি!
ডাকবাক্সে হয় না ঢালা।
মন্তব্য করুন