নিউইয়র্কে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের জন্য বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগীকে স্বাস্থ্যসেবা কভারেজ চালিয়ে রাখতে কাজ, পড়াশোনা, চাকরির প্রশিক্ষণ বা কমিউনিটি সেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রমাণ দিতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করতে না পারলে তারা মেডিকেইড সুবিধা হারাতে পারেন।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যে ৬৪ লাখের বেশি এবং শুধু নিউইয়র্ক সিটিতে ৩০ লাখের বেশি মানুষ মেডিকেইডের আওতায় রয়েছেন। ফলে নতুন এই নীতির প্রভাব পড়তে পারে বিপুলসংখ্যক বাসিন্দার ওপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যাদের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে, তাদের প্রতি মাসে অন্তত ৫৮০ ডলার আয় করতে হবে অথবা চাকরি, পড়াশোনা, চাকরির প্রশিক্ষণ কিংবা স্বেচ্ছামূলক কাজসহ অনুমোদিত কার্যক্রমে মোট ৮০ ঘণ্টা অংশগ্রহণ করতে হবে। একাধিক কার্যক্রম মিলিয়েও এই ৮০ ঘণ্টা পূরণ করা যাবে।
তবে সবার জন্য এই নিয়ম বাধ্যতামূলক নয়। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোর, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতে অক্ষম ব্যক্তি, মেডিকেয়ার সুবিধাভোগী, আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কার আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুর পরিচর্যাকারী, এসএনএপি বা টিএএনএফ কর্মসূচির নির্ধারিত শর্ত পূরণকারীরা, মাদকাসক্তি নিরাময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী, কারাগারে থাকা বা সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ফস্টার কেয়ারে থাকা তরুণ-তরুণী এবং সম্পূর্ণ অক্ষমতাজনিত সুবিধাপ্রাপ্ত সাবেক সামরিক সদস্যরা এই শর্ত থেকে অব্যাহতি পাবেন।
এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা, নার্সিং হোমে অবস্থান, বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য অন্য এলাকায় যেতে হওয়া, ফেডারেল সরকার ঘোষিত দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় বসবাস কিংবা অত্যন্ত উচ্চ বেকারত্বপূর্ণ এলাকায় থাকার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতেও সাময়িক অব্যাহতির সুযোগ থাকবে।
নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ মনে রাখার পরামর্শ দিয়েছে অঙ্গরাজ্য সরকার। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে যাদের ওপর নতুন শর্ত প্রযোজ্য হবে, তাদের ডাকযোগে বিস্তারিত নোটিশ পাঠানো হবে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কিছু অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতার পরিবর্তনের কারণে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মেডিকেইড সুবিধায় পরিবর্তন আসতে পারে এবং তাদের জন্য বিকল্প স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির যোগ্যতা যাচাই করা হবে। আর ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
যারা ১ জানুয়ারির আগে মেডিকেইডের জন্য আবেদন করবেন বা ১ মার্চের আগে কভারেজ নবায়ন করবেন, তারা যোগ্য হলে ১২ মাসের জন্য সুবিধা পাবেন। এরপর প্রতি ছয় মাস অন্তর কভারেজ নবায়ন করতে হবে। আর ১ জানুয়ারির পরে আবেদন বা ১ মার্চের পরে নবায়ন করলে শুরু থেকেই প্রতি ছয় মাস পরপর যোগ্যতা যাচাই করা হবে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ সুবিধাভোগীদের ঠিকানা, ফোন নম্বর ও অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে নতুন নিয়ম সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ বাদ না পড়ে। প্রয়োজনে নিউইয়র্ক স্টেট অব হেলথের গ্রাহকসেবা নম্বর ৮৫৫-৩৫৫-৫৭৭৭-এ যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এদিকে মেডিকেইডের নতুন কাজের শর্ত আরও কঠোর করছে অন্তত আটটি রিপাবলিকান-শাসিত রাজ্য। ট্রাম্প প্রশাসন অসুস্থতার দাবি করা মেডিকেইড সদস্যদের ২০২৭ সাল পর্যন্ত চিকিৎসকের প্রমাণ ছাড়াই সাময়িকভাবে ছাড় পাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। তবে আরকানসাস, আইডাহো, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও ও ইউটা এই সুবিধা প্রত্যাখ্যান করেছে। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট প্রাপ্তবয়স্কদের মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা অথবা পড়াশোনায় যুক্ত থাকতে হবে। অসুস্থতার কারণে কাজ করতে না পারলে ছাড়ের জন্য চিকিৎসাগত প্রমাণ দিতে হবে।
রক্ষণশীলদের দাবি, কঠোর যাচাইয়ের মাধ্যমে মেডিকেইডের অপব্যবহার ও সরকারি অর্থের অপচয় ঠেকানো যাবে। তবে ডেমোক্র্যাট ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চিকিৎসকের সনদ সংগ্রহের জটিলতায় প্রকৃত অসুস্থ মানুষও স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন। বিশেষ করে চিকিৎসক সংকটে থাকা গ্রামীণ এলাকার মানুষ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ফেডারেল বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, নতুন কাজের শর্তের কারণে আগামী এক দশকে অন্তত ৫০ লাখ মানুষ মেডিকেইড কভারেজ হারাতে পারেন।
মন্তব্য করুন