যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক সিটিতে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী আম-কাঁঠালি উৎসব। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার মধুমাস, গ্রামীণ জীবন ও আম-কাঁঠালের ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ উৎসবে মিশিগানের বিভিন্ন সিটি থেকে বাংলাদেশি ও বাঙালিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন।
০৮ আগস্ট ২০২৬ রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় হ্যামট্রাম্যাক সিটি হলের পাশের পার্কে মিশিগান থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘ইউ-এস বাংলা ডায়েরি’র উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পত্রিকাটির সম্পাদক সঞ্জয় দেব। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান সম্পাদক হারান কান্তি সেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন হ্যামট্রাম্যাক সিটি কাউন্সিলর আবু মুসা।
আয়োজনে বাংলা প্রেস ক্লাব অব মিশিগানের সভাপতি পার্থ দেব, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল খান, কবি ইশতিয়াক রুপু, সাবেক সচিব মো. আব্দুর রউফ, সাংবাদিক ইকবাল ফেরদৌস, ‘সুপ্রভাত মিশিগান’-এর সম্পাদক চিন্ময় আচার্য্য, মিশিগান দুর্গা টেম্পলের সভাপতি পংকজ দাশ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম মোস্তফা খান এবং প্রবীণ শিক্ষক অমরেশ চন্দ্র দেব গোপালসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
ফল উৎসবের পাশাপাশি আয়োজনটিতে ছিল সাহিত্য ও সংগীত পরিবেশনা। হারান কান্তি সেন নিজের লেখা ‘আম-কাঁঠালীর পুঁথি’ পাঠ করেন। পরে সংগীত পরিবেশন করেন শর্মিলা দেব শর্মী ও কল্যাণী দেব চৌধুরী। বক্তারা বলেন, আম ও কাঁঠাল বাঙালির কাছে কেবল মৌসুমি ফল নয়, বরং শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক বন্ধন ও গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে এসব ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
উৎসবের পরিবেশে ছিল বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। নারীরা হলুদ শাড়ি এবং পুরুষরা হলুদ পোশাক পরে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিভিন্ন সিটিতে বসবাসরত বাঙালিরা পরিবারসহ যোগ দেওয়ায় আয়োজনটি পরিণত হয় আনন্দঘন পারিবারিক মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত প্রায় দুই শতাধিক অতিথিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আম, কাঁঠাল, আনারস, খেজুর ও তরমুজ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। শৃঙ্খলা বজায় রেখে অতিথিরা সারিবদ্ধভাবে ফলের প্লেট সংগ্রহ করেন।
উৎসব আয়োজনে সহযোগিতা করায় হ্যামট্রাম্যাক সিটি কাউন্সিলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকরা। তারা জানান, প্রবাসে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে আগামী দিনগুলোতে প্রতি বছর জুলাই মাসে নিয়মিতভাবে আম-কাঁঠালি উৎসব আয়োজন করা হবে।
মন্তব্য করুন