আত্মার ঠিকানা
হারুন আল রশিদ মামুন
গোপন অনুভূতিতে খুঁজি সিলেট শহর,
যেখানে প্রেম ছিল গলির ধারে,
আর ˆশশব খেলে যেত প্রতিদিন সকালে|
চেনা রাস্তায় আজও ছায়া মেলে..
সেই আমি, সেই আমরা,
এখন নিখোঁজ কালে|
জিন্দাবাজারের কোলাহলে হারিয়েছি গান,
চৌহাট্টার মোড়ে কেবল ব্যস্ততা আর যান|
রঙ্গমহল সিনেমার সামনে দাঁড়িয়ে,
স্মৃতির পোস্টারে খুঁজি পরিচিত মুখ,
কেউ নেই, সবার ভিড়ে ঢেকে গেছে সুখ|
ক্বীন ব্রিজের জলে ভাসত ¯^প্নের পাল,
সুরমা তখন গাইত গানের তান অপার|
আজ সে নদী চুপচাপ, মুখে নেই কথা,
আমার মতোই হয়তো সে ও অভিমানে ব্যথা|
আ¤^রখানায় ভাসত কাঁচা বযসেৱ মন,
মিৱাবাজাৱ জানত আমাৱ নীৱব বন্ধন|
লালবাজারের মাছের ঘ্রাণে
ভেসে ওঠে মায়ের মুখ,
এক কাপ চায়ের তাপে গলে যায় দুঃখ|
পাঠানটুলা, লামাবাজার, শিবগঞ্জ, উপশহর,
সবখানে ছড়িয়ে ছিল আমার আড্ডার ঘর|
শাহী ঈদগাহে পায়ের ছাপ পড়ে থাকত,
সেই ছাপ শুধু বৃষ্টিতে মুছে যায়,
নষ্ট হয়ে ভাসে|
রাতারগুলের গা ছমছমে নীরবতা,
ভোলাগঞ্জে পাথরের নিচে নদীর কান্নার ব্যাখ্যা|
তামাবিলের পথ ধরে হেঁটে যেতাম মেঘের টানে,
সেই পথ আজও আছে, শুধু পায়ে মেখে নেই চেনা মানে|
তবু এখনো সন্ধ্যায়, কুয়াশাভেজা কোন বিকেলে
চোখ বুজলেই দেখি, চেনা সেই পথে আমি হাঁটি,
জীবন থেমে থাকে একেকটা স্মৃতির গানে,আর আমি?
হৃদয়ভাঙা আর্তনাদে খুঁজি সেই পথ,
যে পথে হারিয়ে গেছে আমার ˆশশব, আমার আত্মা|
সিলেট আমার ছিল না শুধু শহর…
ছিল আত্মার ঠিকানা, ছিল প্রতিটি অনুভূতি|
মন্তব্য করুন