ইকবাল ফেরদৌস
২ জুন ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শিশুদের নিরাপত্তা আজ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা শুধু বাংলাদেশকে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিদেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে| আমেরিকার মিশিগানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উদ্বেগ, ক্ষোভ ও শঙ্কার সঙ্গে ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন| কারণ, এটি আর বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়; বরং সমাজের ভেতরে জমে ওঠা ভয়াবহ ˆনতিক অবক্ষয়ের নির্মম বহিঃপ্রকাশ|

 

গত এক মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় চার থেকে দশ বছর বয়সী একাধিক শিশু ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা কিংবা হত্যার শিকার হয়েছে| ঠাকুরগাঁও, মুন্সিগঞ্জ, পাবনা, সিলেট কিংবা চট্টগ্রাম- কোথাও যেন শিশুরা নিরাপদ নয়| সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা পরিবারের পরিচিত মানুষ, প্রতিবেশী কিংবা স্থানীয় তরুণ| এটি সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ অসুস্থতার ইঙ্গিত দেয়|

 

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন রয়েছে, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডও নির্ধারণ করা হয়েছে| কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- কেবল কঠোর শাস্তি কি অপরাধ কমাতে পেরেছে? বাস্তবতা বলছে, পারেনি| কারণ, আইন শুধু অপরাধের বিচার করতে পারে; অপরাধপ্রবণ মানসিকতা গড়ে ওঠা ঠেকাতে পারে না| এজন্য প্রয়োজন পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন- সবার সম্মিলিত উদ্যোগ| শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতা শিক্ষা, বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং ব্যবস্থা, যৌন অপরাধীদের ডাটাবেজ শক্তিশালীকরণ এবং দ্রুত বিচার কার্যকর করতে হবে| একইসঙ্গে সামাজিকভাবে অপরাধীদের বয়কটের সংস্কৃতিও ˆতরি করা জরুরি|

 

আমরা প্রায়ই দেখি, কোনো মর্মান্তিক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উত্তাল হয়, প্রতিবাদ হয়, মানববন্ধন হয়; কিন্তু কিছুদিন পর আবার সব স্তব্ধ হয়ে যায়| এই নীরবতাই অপরাধীদের সাহস জোগায়| শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের ˆনতিক দায়িত্ব|

 

আজ যদি আমরা শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হই, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না| রামিসা, লামিয়া কিংবা নাম না জানা অসংখ্য শিশুর কান্না আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করছে- আমরা কি সত্যিই মানবিক সমাজে বাস করছি?

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বারহাম সালিহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

মেডিকেইডের ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর

তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাড়ল সুদের হার

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিনকার্ডে নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় লাগাম, মার্কিন নজরদারিতে প্রতিষ্ঠানটি

বিজিবির অভিযানে মাদক-অস্ত্রসহ ৯১৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক ২৮১

১০

ডেট্রয়েট থেকে আটলান্টিক সিটি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তৃত উপস্থিতি

১১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে ডলারের বিকল্প খুঁজছে বিভিন্ন দেশ

১২

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র

১৩

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে, যাচাই হবে স্পনসরের ক্রেডিট তথ্য

১৪

সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১৫

ডাকযোগে ভোটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের উদ্যোগে বাধা

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটের অভিযোগে ৭ গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার

১৭

ছয় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার হার সর্বোচ্চ

১৮

প্রথমবার প্রকাশ্যে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

১৯

নবীনদের বরণ, গ্র্যাজুয়েটদের বিদায়: ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিজিএসএ’র যাত্রা শুরু

২০