ইকবাল ফেরদৌস
১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মিশিগানে আবাসনসংকট: স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আর কত দিন দায় এড়াবে?

মিশিগানে চাকরির সুযোগ থাকলেও কর্মস্থলের কাছে সাশ্রয়ী বাসস্থান খুঁজে পাচ্ছেন না অনেক মানুষ। বাড়তি ভাড়ার চাপে তরুণদের প্রথম বাড়ি কেনার স্বপ্ন পিছিয়ে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট আয়ে চলা প্রবীণদের জন্যও পরিচিত এলাকায় বসবাস চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।

 

মিশিগান স্টেট হাউজিং ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার বাসস্থানের ঘাটতি ছিল। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার বাসস্থান যুক্ত হওয়ার পরও এত বড় ঘাটতি রয়ে যাওয়া দেখায়, নির্মাণের গতি সংকটের তুলনায় যথেষ্ট নয়। নির্মাণব্যয় বেড়েছে, বাজেটের সীমাও আছে। কিন্তু এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। কোথায় কী ধরনের বাড়ি নির্মাণ করা যাবে, ছোট বাড়ি বা ডুপ্লেক্সের অনুমতি মিলবে কি না, কিংবা একটি আবেদনের সিদ্ধান্ত পেতে কত দিন লাগবে—এসবের অনেকটাই স্থানীয় নিয়ম ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।

 

ন্যূনতম জমির আয়তন ও বাধ্যতামূলক পার্কিংয়ের পুরোনো নিয়ম যদি নির্মাণের সুযোগ সীমিত করে, তবে সেগুলো পর্যালোচনা জরুরি। রাজ্যের আবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকাতেও ছোট বাড়ি, ডুপ্লেক্স, বিদ্যমান বাড়ির সঙ্গে অতিরিক্ত আবাসিক ইউনিট নির্মাণ এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত তথ্য প্রকাশ। প্রতিটি শহর, টাউনশিপ ও কাউন্টি জানাক—তাদের এলাকায় কতটি ও কী ধরনের বাসস্থান প্রয়োজন, কতটি নির্মাণ আবেদন ঝুলে আছে, সিদ্ধান্ত দিতে গড়ে কত দিন লাগছে এবং কোন নিয়মের কারণে প্রকল্প আটকে যাচ্ছে।

 

আবেদনকারীদের মাসের পর মাস অপেক্ষায় রেখে আবাসনসংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে চলবে না; কোথায় বাধা তৈরি হচ্ছে, তা বাসিন্দাদের জানাতে হবে। যেসব এলাকায় রাস্তা, পানি ও পয়োনিষ্কাশনের সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে আবাসনের বিকল্প বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বড় জমিতে একটি বাড়িই সব পরিবারের জন্য উপযুক্ত বা সাশ্রয়ী সমাধান নয়। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ছোট বাড়ি, ডুপ্লেক্স ও বিদ্যমান বাড়ির সঙ্গে অতিরিক্ত ইউনিট নির্মাণের সুযোগ বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, নির্মাণের অনুমতি বাড়ালেই স্বল্প আয়ের মানুষের ভাড়া আপনাআপনি নাগালের মধ্যে আসবে না।

 

মিশিগানের Housing Readiness Incentive Grant কর্মসূচির আওতায় যোগ্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা ও জোনিংয়ের নিয়ম হালনাগাদসহ নির্দিষ্ট কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার অনুদানের আবেদন করতে পারে। স্থানীয় প্রতিনিধিরা এই সুযোগ নিয়েছেন কি? না নিলে কেন নেননি? বাসিন্দাদের এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার আছে। আবাসন নিয়ে বাসিন্দাদের উদ্বেগ শুনতে হবে, অবকাঠামোর সক্ষমতাও যাচাই করতে হবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগামী ছয় মাসের একটি প্রকাশ্য কর্মসূচি দিক। তাতে থাকুক কোন নিয়ম কবে পর্যালোচনা হবে, ঝুলে থাকা কতটি আবেদনের নিষ্পত্তি করা হবে এবং সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য কোন এলাকাগুলো যাচাই করা হবে। এরপর প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রকাশ করা হোক।

 

মিশিগানের আবাসনসংকট রাজ্যজুড়ে, সুতরাং সমাধানের দায়িত্বও ভাগ করে নিতে হবে। মানুষ যখন কর্মস্থলের কাছে থাকতে পারছেন না, তরুণেরা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন এবং প্রবীণেরা পরিচিত এলাকা ছাড়ার চাপে পড়ছেন, তখন সিদ্ধান্তহীনতারও মূল্য আছে। সেই মূল্য দিচ্ছেন বাসিন্দারা। এখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজন স্পষ্ট হিসাব, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং দৃশ্যমান কাজ।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশকে সুখবর দিল যুক্তরাষ্ট্র

১

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন, সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

২

হলুদ পাতায় হেমন্ত, জাহাঙ্গীর চৌধুরী

৩

ভালোবাসার দেশ, ইশতিয়াক রুপু

৪

বাফেলোর শরৎ, হাবিব ফয়েজি

৫

​নিউইয়র্কে ২৫ মেয়রকে নিয়ে আরবান ২০ সম্মেলন সম্পন্ন

৬

গ্লোবাল বাংলাদেশি চেম্বার অফ কমার্সের যাত্রা শুরু

৭

কম খরচে নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার সুযোগ, মিলতে পারে ১ লাখ ডলার

৮

মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনা, নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা

৯

ষাট পেরিয়ে নতুন শুরু: কর্নেল স্যান্ডার্সের জীবন ও কেএফসির বিশ্বজয়ের গল্প

১০

মিশিগানে আবাসনসংকট: স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আর কত দিন দায় এড়াবে?

১১

কলম্বাস দিবস: উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ে থাকা আমেরিকার আরেক ইতিহাস

১২

পিঙ্ক অক্টোবর ২০২৬: গোলাপি রিবনের বার্তা পৌঁছাক মানুষের জীবনে

১৩

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী

১৪

বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসায় সামাজিকমাধ্যম যাচাই শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

১৫

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের পুরো ভাষণ

১৬

মামলা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে ১০ কোটি ডলার দিচ্ছে টিকটক

১৭

টেনেসিতে ২০০ বছর পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হতে যাচ্ছে

১৮

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার দুই প্রতিষ্ঠান

১৯

মানসিক স্বাস্থ্য: যত্ন নিলে সুস্থ থাকা সম্ভব

২০