যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন মন্দিরে পূজা, অঞ্জলি, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি সনাতন ধর্মাবলম্বী।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে মিশিগানের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠন প্রায় এক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবটি প্রবাসীদের মিলনমেলা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালি সংস্কৃতি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
ডেট্রয়েটের দুর্গা মন্দিরে ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর তিথি অনুযায়ী পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। দেবীর বোধন, পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, যজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণ ও আরতির পাশাপাশি ১৮ অক্টোবর অষ্টমীর দিনে ১০৮টি পদ্মফুল ও ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কবিতা, সংগীত, নৃত্য, গীতিনাট্য ও ধামাইল পরিবেশনা চলে। ২৪ ও ২৫ অক্টোবর ভক্তদের জন্য পুনরায় উৎসবের আয়োজন করা হবে।
দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পংকজ দাশ জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ভক্তদের উপস্থিতি ছিল বেশি। মন্দিরের সহসভাপতি নিপেশ সূত্রধর বলেন, ভক্তদের বসা ও খাবারের সুবিধার জন্য মন্দিরের বাইরে অস্থায়ী ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৫ অক্টোবর সাংস্কৃতিক আয়োজনে কলকাতা থেকে আসা অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনার কথা রয়েছে। পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে মন্দিরের নিয়মিত শারদীয় প্রকাশনা ‘শারদ অর্ঘ্য’।
ওয়ারেনের শিব মন্দিরেও ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর চার দিনব্যাপী দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ ও আরতির পাশাপাশি কবিতা, সংগীত, নৃত্য, নাটক ও ধামাইল পরিবেশিত হয়। ভারতের শিল্পী দেয়াশিনী রায় অতিথি শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন। একই শহরের মিশিগান কালীবাড়ীতেও চার দিনব্যাপী পূজা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হ্যামট্রাম্যাকের রাধাকৃষ্ণ মন্দিরেও ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পূজা, অঞ্জলি, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিকে রচেস্টার হিলসের সদ্য প্রতিষ্ঠিত ওঁ শিবশক্তি রাধামাধব মন্দিরে এবার প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এবারের দুর্গোৎসব ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মকে বাঙালি শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
মন্তব্য করুন