মিশিগানে মেডিকেইডের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর আগামী কয়েক বছরে প্রায় ২ লাখ বাসিন্দা স্বাস্থ্যসেবা কভারেজ হারাতে পারেন। নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের জন্য কাজ, শিক্ষা বা নির্দিষ্ট আয়ের শর্ত পূরণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর আওতায় এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনে মেডিকেইডের যোগ্যতা যাচাই আরও ঘন ঘন করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নিয়মটি ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নির্দিষ্ট হেলদি মিশিগান প্ল্যান সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যাদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় প্রযোজ্য নয়, তাদের যোগ্যতা ধরে রাখতে নির্ধারিত মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা বা অনুমোদিত অন্য কোনো কার্যক্রম করতে হবে। বিকল্প হিসেবে অন্তত অর্ধকালীন শিক্ষায় ভর্তি থাকা অথবা মাসে অন্তত ৫৮০ ডলার যোগ্য আয় থাকলেও শর্ত পূরণ হবে।
নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ইতোমধ্যে মেডিকেইডে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ১ মার্চ বা তার পরের তারিখে শুরু হওয়া নবায়নের সময় থেকে নতুন শর্ত যাচাই করা হবে। এর পাশাপাশি অধিকাংশ হেলদি মিশিগান প্ল্যান সদস্যের যোগ্যতা বছরে একবারের পরিবর্তে বছরে দুবার যাচাই করা হবে। মিশিগানের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যমান সদস্যদের নবায়নের মধ্যবর্তী সময়ে অন্তত এক মাস তারা কাজের শর্ত পূরণ করেছেন অথবা কোনো অনুমোদিত ছাড়ের আওতায় ছিলেন এমন প্রমাণ দিতে হতে পারে।
গর্ভাবস্থা, নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত পরিস্থিতি এবং কিছু ধরনের পরিচর্যার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কাজের শর্ত থেকে ছাড় পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে ১৩ বছর বা তার কম বয়সী শিশু কিংবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কিছু পরিচর্যাকারীও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
তবে নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা কিংবা রাজ্যের চাওয়া তথ্য সময়সীমার মধ্যে জমা না দিলে মেডিকেইড কভারেজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি কেউ কাজ করলেও বা কোনো ছাড়ের যোগ্য হলেও রাজ্য কর্তৃপক্ষ তার যোগ্যতা নিশ্চিত করতে না পারলে সুবিধা হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। নতুন নিয়মের ফলে মিশিগানে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়া এবং নিজেদের যোগ্যতা বা ছাড়ের প্রমাণ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন