বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বাংলাদেশের মানুষের ফেসবুক ব্যবহারের ব্যাপকতা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে আলোচনার কথাও জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীন দূতাবাসগুলোর ফেসবুক পেজের মধ্যে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের পেজটি সবচেয়ে বড়। বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতার বিষয়টি এ তথ্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয় বলেও তার বক্তব্যে উঠে আসে। মেটার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প, বিনিয়োগের পরিমাণ, চুক্তি বা নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এর আগে ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ডেইলি সানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ খুঁজতে মার্কিন দূতাবাস সিসকো, প্লাগ অ্যান্ড প্লে এবং এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের যোগাযোগ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। অনলাইন বিপণন, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবায় সহযোগিতা বাড়লে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে মেটার সঙ্গে আলোচনার ফলে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বা প্রযুক্তি স্থানান্তরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে আপাতত ব্যবসা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে দুই পক্ষের যোগাযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন।
মন্তব্য করুন