যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চুক্তি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বা ডিইআই কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলায় মেরিল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশের আবেদন নাকচ করেছেন। ফলে সরকারি চুক্তির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নীতিটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ অ্যাডাম অ্যাবেলসন মামলাটিতে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা ও স্থগিতাদেশের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, মামলাকারীরা নীতিটি অসাংবিধানিক এবং এর প্রয়োগে অপূরণীয় ক্ষতি হবে এমন দাবি প্রাথমিক পর্যায়ে যথেষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আওতায় সরকারি চুক্তি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা প্রযোজ্য ফেডারেল বৈষম্যবিরোধী আইন লঙ্ঘনকারী ডিইআই কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। কোনো প্রতিষ্ঠান এই শর্ত না মানলে সরকারি চুক্তি হারানোর পাশাপাশি ফেডারেল আইনের অধীনে তদন্তের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
মামলাকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, নীতিটির বিস্তৃত প্রয়োগ বৈধ ডিইআই উদ্যোগকেও আইনি ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। বিশেষ করে কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, কর্মী উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মামলাকারীরা আরও দাবি করেছেন, নীতিটি প্রতিষ্ঠানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, বেআইনি বৈষম্য প্রতিরোধের পাশাপাশি সরকারি চুক্তির শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক অধিকারও সুরক্ষিত থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বিচারক অ্যাবেলসনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আদেশটি মূলত ফেডারেল বৈষম্যবিরোধী আইন ইতোমধ্যে যে ধরনের ইচ্ছাকৃত জাতিগত বা জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে, তার বাইরে নতুন কোনো বৈষম্য অনুমোদন করে না। আদালত আরও উল্লেখ করেছেন, এই বিধান সরকারি চুক্তির আওতায় সম্পাদিত কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সরকারি চুক্তির ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, খাদ্যসেবা, পণ্য সরবরাহ এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নীতির প্রয়োগের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি ও সরকারি চুক্তির শর্ত পর্যালোচনা করতে হতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠান সমানভাবে ঝুঁকির মুখে পড়বে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের সরকারি চুক্তির আওতায় রয়েছে, তাদের ডিইআই কর্মসূচির প্রকৃতি কী এবং কোনো কার্যক্রম ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তার ওপর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে।
এদিকে, একই নীতিকে ঘিরে পৃথক আইনি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সরকারি ঠিকাদারদের জন্য নতুন চুক্তির শর্ত নিয়ে ২০টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে মেরিল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে। সাময়িক স্থগিতাদেশের আবেদন নাকচ হওয়ায় নীতিটি আদালতের আদেশে আপাতত স্থগিত হয়নি। তবে এ সিদ্ধান্তকে নীতিটির চূড়ান্ত বৈধতার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। মূল মামলায় সাংবিধানিক অধিকার, বৈষম্যবিরোধী আইন এবং সরকারি চুক্তির শর্ত কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, সে বিষয়ে আরও আইনি প্রক্রিয়া চলবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
মন্তব্য করুন