যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন ইলন মাস্ক। জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত দলটির নির্বাচনী প্রচেষ্টায় তিনি ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এর ফলে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে বড় পরিচিত রাজনৈতিক অর্থদাতাদের একজন হয়ে উঠেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এ অর্থায়নের তথ্য প্রকাশ করে। পরে মাস্কের সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা সুপার প্যাকের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু রোমিও অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্কের দেওয়া অর্থের মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার গেছে ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে’। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থনে কাজ করা এই সুপার প্যাকের মাধ্যমে দেওয়া অর্থটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় অনুদানগুলোর অন্যতম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাস্কের নিজস্ব ‘আমেরিকা প্যাক’-এ দেওয়া হয়েছে আরও ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সংগঠনটি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী করতে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বড় কর্মসূচি চালিয়েছিল। এবারও মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোসহ বিভিন্ন নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে কাজ করা ‘লোন স্টার লিবার্টি প্যাক’-কেও ১ কোটি ডলার দিয়েছেন মাস্ক। ফলে টেক্সাসের এই নির্বাচনও তার রাজনৈতিক অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
মাস্কের বর্তমান অর্থায়ন তার আগের অবস্থানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মে মাসে তিনি রাজনৈতিক ব্যয় কমানোর ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, তিনি মনে করেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি যথেষ্ট করেছেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তার সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের পাশে প্রকাশ্যে সক্রিয় ছিলেন মাস্ক। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তিনি সরকারি দক্ষতা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সরকারি দায়িত্ব ছাড়ার সময় দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলেও পরে সেই সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়। গত সপ্তাহে ট্রাম্প মাস্ককে ‘ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স’ বা জাতীয় বিজ্ঞান পদকও দেন।
এদিকে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ২০২৪ সালের তুলনায় এবারের নির্বাচনী প্রচারে মাস্ককে অনেকটাই আড়ালে দেখা যাচ্ছে। শেয়ারবাজারের ওঠানামার কারণে চলতি বছরে তার সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের আশপাশে ওঠানামা করেছে। ফোর্বসের হিসাবে গত সপ্তাহে তার সম্পদ আবারও এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের হাতে নির্বাচনী অর্থের বড় সুবিধা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকানদের জন্য বিপুল অর্থের এই প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে টেলিভিশন ও অন্যান্য সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারণার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাস্কের সুপার প্যাকের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু রোমিও নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এই বড় বিনিয়োগ রিপাবলিকানদের নিজেদের নির্বাচনী বার্তা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তার মতে, এর মাধ্যমে প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মাস্কের অর্থায়ন নিয়ে ডেমোক্রেটরা সমালোচনা করেছে। ডেমোক্রেটদের সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার প্রচেষ্টায় থাকা ‘সিনেট মেজরিটি প্যাক’-এর মুখপাত্র লরেন ফ্রেঞ্চ অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকানরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে নিজেদের প্রার্থী, প্রেসিডেন্ট ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে থাকা নেতিবাচক অবস্থাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
মন্তব্য করুন