যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া নিম্ন আদালতের রায় পুরোপুরি স্থগিত করেননি দেশটির আপিল আদালত। তবে ওই নীতির কারণে যেসব অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া অংশে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। ১৯ অক্টোবরের এ আদেশের ফলে ভিসা-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার নীতিকে বাতিল করা নিম্ন আদালতের রায় এবং এ বিষয়ে দেওয়া ঘোষণামূলক রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদন মঞ্জুর হয়নি। তবে শুধু ওই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যাত ভিসার আবেদন বাতিল করে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানোর অংশটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের করা স্থগিতাদেশের আবেদন তিন বিচারকের একটি প্যানেলে পাঠানো হয়েছে।
মামলাটি ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (ক্লিনিক) বনাম রুবিও’ নামে পরিচিত। নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের একটি ফেডারেল আদালত গত ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, এ নীতি মার্কিন সরকারের আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। পরবর্তী সময়ে ২৪ আগস্টের রায়ে শুধু ওই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যাত ভিসার আবেদনগুলোও বাতিল করে পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২৮ আগস্ট প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে জানায়, আদালতের আদেশ অনুসারে ২১ আগস্ট থেকে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার নীতি আর কার্যকর নেই। বাংলাদেশের নামও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় ছিল।
পাবলিক চার্জের কারণে প্রত্যাখ্যাত ভিসার ক্ষেত্রে কী হবে?
এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে ‘পাবলিক চার্জ’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়, যিনি ভবিষ্যতে সরকারের ওপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে বিবেচিত হন। আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্য, আয়, সম্পদ, পারিবারিক সহায়তা এবং প্রযোজ্য অন্যান্য বিষয় মূল্যায়নের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে, ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের নীতির বিরুদ্ধে আদালতের মামলাটি ছিল মূলত জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপিত সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। ফলে কেবল ওই নীতির কারণে প্রত্যাখ্যাত আবেদন এবং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পাবলিক চার্জ-সংক্রান্ত যোগ্যতা নিয়ে প্রত্যাখ্যাত আবেদনকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২২১(জি) ধারায় ভিসা প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো, আবেদনকারীকে তখনই ভিসার যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায়নি। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া অথবা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আবেদন পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে ২২১(জি) নিজে পাবলিক চার্জের নির্দিষ্ট আইনি ধারা নয়। পাবলিক চার্জ-সংক্রান্ত প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৪) ধারা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
১৯ অক্টোবরের আদেশে ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের নীতিকে বাতিল করা নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকলেও, শুধু ওই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানোর অংশে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিন বিচারকের প্যানেল পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলোর আইনি অবস্থান অনিশ্চিত থাকতে পারে।
তবে এ আদেশের অর্থ এই নয় যে, সব বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদন আবার স্থগিত হয়ে গেছে কিংবা পাবলিক চার্জের কারণে প্রত্যাখ্যাত সব আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। প্রত্যেক আবেদনকারীর প্রত্যাখ্যানের প্রকৃত কারণ, প্রত্যাখ্যানপত্রের ধারা এবং দূতাবাসের নির্দেশনা বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে।
মন্তব্য করুন