যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে শত শত ভুয়া বিয়ের আয়োজন এবং এর মাধ্যমে ৬০ লাখ ডলারের বেশি মুনাফা করার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসে এক দশকের বেশি সময় ধরে এই কথিত জালিয়াতি চলেছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল প্রসিকিউটররা মামলার বিষয়টি ঘোষণা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক জেনিফার গনজালেজ চক্রটির নেতৃত্ব দিতেন। তিনি অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়েগুলোকে প্রকৃত সম্পর্ক হিসেবে দেখাতে সংশ্লিষ্টদের যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা, জীবনবিমা করা এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ছবি তোলার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হতো। এসব প্রমাণ অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পর্কের সত্যতা দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ। ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজনকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ষষ্ঠ আসামি অন্য একটি অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানে সহায়তা, ষড়যন্ত্র এবং বিয়েজনিত জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই কার্যক্রম থেকে পাওয়া অর্থ বিদেশে ব্যবসা ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরকারি খাদ্যসহায়তার আবেদনে বৈবাহিক অবস্থা ও আয়ের তথ্য গোপনের অভিযোগও রয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা বৈধ অভিবাসনপ্রক্রিয়ার অংশ। তবে শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো বিয়ে করে আবেদন করলে তা বিয়েজনিত জালিয়াতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ঘটনায় প্রকৃত বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আবেদন এবং সব তথ্য ও নথি সঠিক রাখার গুরুত্ব রয়েছে।
তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা মানেই তিনি দোষী নন। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
মন্তব্য করুন