২৯ অক্টোবর ২০২২, ৬:৪৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

জর্জ ইংলিশ এর সমাধি স্তম্ভটি সংস্কার এখনই প্রয়োজন

সাহেব মিনার

ঐতিহাসিক শিল্পনগরী ছাতকের বাগবাড়ি এলাকায় একটি টিলার উপর রয়েছে ব্রিটিশ চুন ব্যবসায়ী জর্জ ইংলিশ এর সমাধি স্তম্ভ। এই সমাধি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয় ১৮৫০খ্রিস্টাব্দে। সিলেট বিভাগের ইতিবৃত্ত বইয়ে লেখক মমিনুল হক লিখেছেন, ১৭৭৪ সালে এইচ.টি.রাইট ও জর্জ ইংলিশ নামে দুজন ব্যবসায়ী ছাতকে চুনের ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে রাইট- ইংলিশ কোম্পানী নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। দীর্ঘদিন ব্যবসা করার পর ১৮১৮ সালে রাইট ও ১৮৫০ সালে ইংলিশের মৃত্যু হয়। ইংলিশ এর পুত্র হেনরী ইংলিশ পিতাকে স্মরনীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে একটি মিনার নির্মাণ করেন, যা সাহেব মিনার নামে পরিচিত। কিন্তু সমস্ত পত্র পত্রিকার ফিচারে লেখা রয়েছে ইংলিশ এর স্ত্রী এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছেন। এই তথ্য সবাই কোথায় পেলেন জানি না। এই মিনাররের জন্য স্থানীয়জনরা এই স্থানকে ইংলিশ টিলা বা সাহেব টিলাও বলে। টিলার উপর এই মিনার করা হয়েছিল সম্ভবত পুরো ছাতকের যে কোন স্থান থেকেই যাতে স্মৃতিস্তম্ভটি দেখা যায় সেই উদ্দেশ্যেই। ছাতক শহরে যে কাউকেই বললে সাহেব মিনারের রাস্তা দেখিয়ে দিবে। কিন্তু এলাকাটিতে প্রবেশ করলে মনে হবে এখানে আসলে মিনার কোথায়, কারন চারদিকে লোকালয়। লোকালয় পার হয়ে আদৌ কোন মিনার স্তম্ভ দেখতে পাবো কিনা, সেই বিষয়ে আমি যথেস্ট সন্দিহান ছিলাম। কিছুদূর হেটে যাবার পর, স্থানীয় একজন প্রবীণকে জিজ্ঞেস করতেই উনি বলে উঠলেন “তুমি সেখানে কিছুতেই উঠতে পারবে না”। চারদিকের বাড়িঘর, টয়লেট, কলপাড় পার হয়ে টিলার কাছে গিয়ে ঝোপঝাড় আর লাল পিচ্ছিল মাটি দেখে আমারও মনে হচ্ছিল, কাছ থেকে স্তম্ভটি দেখা কোনভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু এতো কাছে এসে, ফিরে যেতেও মন চাইছিল না। ধীরে ধীরে টিলার দিকে পা বাড়ালাম। জংগল দেখে বোঝা যাচ্ছিল, অনেকদিন এমুখো কেউ হয়নি। টিলার উপরে গেলাম। টিলার চারধারে মাটি এমনভাবে কাটা হয়েছে, দুহাত পরিমাণ জায়গাও নেই স্তম্ভের চারদিকে। ঝোপঝাড় এমনভাবে জন্মেছে খাদ আর টিলার মাটির অংশ বোঝা যাচ্ছিল না। স্মৃতিস্তম্ভের চারদিকে বাউন্ডারি ছিল বোঝা যাচ্ছে। দেয়ালের কিছু অংশ রয়ে গেছে। এপিটাফটি অক্ষত আছে কিন্তু কাছে গিয়ে পড়বার জো নেই। কারণ, সেই দিকটাতে খাদ, দাঁড়ানোর জায়গা নেই। স্তম্ভের উপরের অংশ মূল স্তম্ভ থেকে ঘুরে গেছে। তিন/ চার ফুট বেদীর উপর স্মৃতিস্তম্ভটি দাড়িয়ে আছে। একটি বেশ বড় টুকরো মাটিতে পড়ে আছে। এটি স্তম্ভের মাঝের অংশ। সেটি টিলার উপর পড়ে আছে। তাই উপরের অংশটি মূল স্তম্ভের উপর বাঁকা হয়ে ঘুরে গেছে। এক ভুমিকম্পে এই ঘটনা ঘটেছে। টিলার নীচে চারদিকে অসংখ্য বসতি। স্তম্ভটি যেমন নিরাপদ নয়, তেমনি টিলার নীচে গড়ে উঠা বসতির জনপদও দারুন অনিরাপদ অবস্থায় আছে।

অতিসত্তর মিনারটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, ঐতিহ্য বাঁচাতে ও জনজীবন বাঁচাতে। আমি যেভাবে উপরে উঠেছি, সেই পদ্ধতিতে উপরে উঠা খুবই ভয়ংকর। কোন দুর্ঘটনা ঘটলে, এটির জন্য কাকে দোষ দেব আমরা আসলে! ঐতিহ্য সংরক্ষণ হচ্ছে না, এটি আর বড় কোন বিষয় নয় আমাদের জন্য। কিন্তু জনজীবনের সুরক্ষা প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কোরআন পোড়ানোর উস্কানি ঘিরে উত্তেজনা হ্যামট্রামিক ও ডিয়ারবর্নে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির

মিশিগানে সিলেটের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট নুরুল হককে সংবর্ধনা

ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন, ভারতীয়দের জন্য নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রের

মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে বিশ্ব, আক্রান্ত ১২০ কোটি মানুষ

বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’  পেলেন অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ

মিশিগানে ঈদ উৎসব ঘিরে বসছে ‘ইউনিক ঈদ বাজার’

মিশিগানের প্রাণের ছোঁয়ায় ওয়াকেস টাউন ইন্টারমিডিয়েট স্কুলে বাংলাদেশী কমিউনিটির জমকালো বৈশাখী উৎসব

গ্রিনকার্ড পেতে অনেক অভিবাসীকেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে: ট্রাম্প প্রশাসন

ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলে সাইবার হামলা চালাচ্ছে ইরান

তারেক রহমানের রোডম‍্যাপে ডিজিটাল কন্টেন্টে  বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা

১০

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সিলেটে প্রতিবাদ কর্মসূচি

১১

স্বল্পমূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ, নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৫০ ডলারে বিশ্বকাপ টিকিট

১২

হিন্দুদের মানবিক সহায়তায় মিশিগানে আত্মপ্রকাশ করছে ‘অন্তিম সেবা ফাউন্ডেশন’

১৩

ট্রাম্পের মিডিয়া সাম্রাজ্যে আর্থিক সংকট, তিন মাসে ৪০০ মিলিয়নের বেশি লোকসান

১৪

ভারতের জেন–জিদের নতুন ট্রেন্ড, আলোচনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

১৫

সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারে হামলা, উদ্বেগে মিশিগান ইমাম কাউন্সিল

১৬

মিশিগানে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উদ্‌যাপিত হলো মা দিবস

১৭

ফোবানার ৪০তম কনভেনশনে অংশ নেবেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

১৮

বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল খাতে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

১৯

প্রযুক্তি বাজারে নতুন চমক, উন্মোচনের পথে ‘ট্রাম্প মোবাইল’

২০