যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ এপ্রিল, মে ও জুন মাসে ২৩৮ মিলিয়ন ডলার নিট লোকসান করেছে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। সোমবার (১০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোকসানের বড় অংশ এসেছে ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল সম্পদের বিপরীতে জামানত এবং ইকুইটি সিকিউরিটিজে ১৯০ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অবাস্তবায়িত লোকসান থেকে। এ ছাড়া ঋণের মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া পরিশোধ না করা সুদ বাবদ ১১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার এবং শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক বাবদ ৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার লোকসান হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে আয় বাড়লেও লোকসানের পরিমাণ ছিল আয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। এসইসিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় পুরো আয়ই এসেছে মিডিয়া খাত থেকে। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন থেকে আয় হয়েছে ১ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং সাবস্ক্রিপশন থেকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ ডলার।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬৪৪ মিলিয়ন ডলারে। এ সময়ে আয় হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের শেয়ার নাসডাকে ডিজেটি প্রতীকে লেনদেন হয়। সোমবার দিনের লেনদেন শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ৮ শতাংশ কমে যায়। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল, ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা ট্রুথ প্লাস এবং ফিনটেক ব্র্যান্ড ট্রুথ ফাই।
গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ নতুন কয়েকটি খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। চলতি মাসের ১ আগস্ট থেকে বিতর্কিত সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা ট্রুথ এপিআইয়ের মাধ্যমে বাজারবিষয়ক তথ্য সরবরাহের ব্যবসাতেও প্রবেশ করেছে তারা।
ট্রুথ এপিআই বিনিয়োগকারীদের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে দ্রুত প্রবেশের সুযোগ দেয়। ট্রাম্প নিয়মিতভাবে ট্রুথ সোশ্যালে শুল্কনীতি এবং ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের মতো বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এমন নীতিগত বিষয়ে ঘোষণা দেন। সোমবার আয়সংক্রান্ত আলোচনায় ট্রাম্প মিডিয়ার অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন ম্যাকগার্ন জানান, ইতোমধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান ট্রুথ এপিআইয়ের সেবা নিয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে ট্রাম্পের পোস্টের বাজারে প্রভাব থাকলেও ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে ২০২২ সালে চালুর পর থেকেই ট্রুথ সোশ্যাল এক্স ও ফেসবুকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস সোমবার জানিয়েছে, অনলাইন ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান সিমিলারওয়েবের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে ট্রুথ সোশ্যালে দর্শনার্থীর সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন