মেডিকেইডের আওতায় প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন মূল্যনীতি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ উদ্যোগের আওতায় দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি ও পুয়ের্তো রিকোর মেডিকেইড কর্মসূচি নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ অন্যান্য উন্নত দেশে পরিশোধ করা সর্বনিম্ন দামের কাছাকাছি মূল্যে পাওয়ার সুযোগ পাবে। হোয়াইট হাউস ১৮ সেপ্টেম্বর এ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন নীতিতে ‘মোস্ট-ফেভার্ড-ন্যাশন’ বা এমএফএন মূল্যপদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় কমানোর চেষ্টা করা হবে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বড় ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় মেডিকেইড কর্মসূচিতে ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডেড ওষুধের দামে ছাড় দেওয়া হবে, যাতে চূড়ান্ত মূল্য এমএফএন মূল্যের বেশি না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় অনেক বেশি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে একই ওষুধের দাম যুক্তরাষ্ট্রে অন্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে এই মূল্য ব্যবধান কমানোর উদ্যোগ নিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসন ফাইজার, এলি লিলি ও নোভো নরডিস্কসহ বড় ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে মূল্য কমানোর চুক্তি করেছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিগুলো অন্যান্য উন্নত দেশে যে দামে ওষুধ বিক্রি করে, তার কাছাকাছি দামে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ওষুধ সরবরাহে সম্মত হয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আরও নয়টি বড় ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই তালিকায় অ্যামজেন, ব্রিস্টল মায়ার্স স্কুইব, বোয়েরিঙ্গার ইনগেলহাইম, জেনেনটেক, গিলিয়াড, জিএসকে, মার্ক, নোভার্টিস ও সানোফি ছিল। এসব চুক্তির আওতায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কিছু ওষুধ এমএফএন মূল্যে পাওয়ার সুযোগ পাবে।
মেডিকেইড হলো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি, যার অর্থায়ন কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকার যৌথভাবে করে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, মেডিকেইড ইতিমধ্যে ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য মূল্যছাড় পেয়ে থাকে। এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত অধিকাংশ মানুষ প্রেসক্রিপশন ওষুধের জন্য তুলনামূলকভাবে কম অর্থ নিজ পকেট থেকে পরিশোধ করেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, স্বেচ্ছামূলক এমএফএন কাঠামোর আওতায় বিদ্যমান কিছু ওষুধ মেডিকেইড কর্মসূচিতে আরও কম দামে সরবরাহ করা হবে। প্রশাসনের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, এতে আগামী ১০ বছরে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের মোট ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। এর মধ্যে ফেডারেল সরকারের সম্ভাব্য সাশ্রয় ৩৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধসহ বিভিন্ন প্রধান শ্রেণির শত শত ওষুধ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কোন কোন ওষুধে নতুন মূল্য কার্যকর হবে এবং অঙ্গরাজ্যগুলো কীভাবে তা বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন