বাংলা সংবাদ ডেস্ক
১০ মে ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ছে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতের নির্দেশ অমান্যের প্রবণতার অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অন্তত ৩১টি মামলায় আদালত উল্লেখ করেছে যে প্রশাসন তাদের নির্দেশ পুরোপুরি অনুসরণ করেনি।

 

বিশেষ করে অভিবাসন সংক্রান্ত মামলাগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফেডারেল বিচারকরা একাধিকবার সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই বিভিন্ন মামলায় প্রশাসনের আচরণ নিয়ে বিস্তৃত প্রশ্ন উঠেছে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফেডারেল আদালতের বিচারকরা অভিযোগ করেছেন যে প্রশাসন বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে। এসব মামলার মধ্যে ছিল ফেডারেল তহবিল কমানো, গণহারে চাকরিচ্যুতি, অভিবাসন নীতি এবং বহিষ্কার কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়। একই সঙ্গে পৃথক অভিবাসন সংক্রান্ত মামলায় ২৫০টিরও বেশি ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ উঠে এসেছে। কোথাও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ফেরত দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিবাসীদের নির্ধারিত সময়ের পরও আটক রাখা হয়েছে। তবে এসব মামলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন পিছু হটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের আচরণ যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভারসাম্য ও আইনের শাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিশেষজ্ঞ ডেভিড সুপার বলেন, “ফেডারেল সরকারের উচিত আইনের শাসনের প্রতি সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা। কিন্তু যখন সরকার নিজেই সেই বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে, তখন পুরো দেশের আইনি কাঠামোর প্রতি সম্মান দুর্বল হয়ে পড়ে।” এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ৭০০টিরও বেশি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনবিদদের মতে, আগের প্রশাসনগুলোর ক্ষেত্রেও আদালতের নির্দেশ অমান্যের কিছু ঘটনা থাকলেও তা ছিল তুলনামূলক সীমিত। সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্টদের পুরো মেয়াদকাল মিলিয়ে যেখানে কয়েকটি ঘটনা দেখা গেছে, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

 

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই ডিস্ট্রিক্ট আদালতের রায় “অবৈধ” এবং প্রশাসন আইন মেনেই কাজ করছে। বিচার বিভাগের আইনজীবীরাও আদালতে যুক্তি দিয়েছেন যে তারা আদালতের নির্দেশ অমান্য করেননি। তাদের দাবি, আইনের ব্যাখ্যা, আপিল আদালতের রায় এবং নির্দেশের সীমার মধ্যেই প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ফেডারেল বিচারকদের সমালোচনা করেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট চাইলে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করতে পারেন।

 

এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে অভিবাসী, অলাভজনক সংস্থা এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর। কিছু ক্ষেত্রে বিচারকরা উল্লেখ করেছেন, প্রশাসন অভিযুক্ত গ্যাং সদস্যদের এল সালভাদরের একটি কুখ্যাত কারাগারে পাঠিয়েছে, বিপুল পরিমাণ বিদেশি সহায়তা আটকে রেখেছে এবং ভয়েস অব আমেরিকার কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করেনি। এসব ঘটনার বেশিরভাগই প্রশাসনের প্রথম কয়েক মাসে ঘটলেও এপ্রিল মাস পর্যন্তও নতুন করে নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তবে সব ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকেনি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩১টি মামলার মধ্যে ১৫টিতে আপিল আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের নীতিকে আংশিক বা পুরোপুরি সমর্থন করেছে অথবা নিম্ন আদালতের পদক্ষেপ সীমিত করেছে।

 

রক্ষণশীল আইনজীবী উইল চেম্বারলেইনের মতে, প্রশাসন সাধারণত আদালতের নির্দেশ মেনে চলে, পরে আপিল করে এবং অনেক ক্ষেত্রেই জয়ী হয়। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে প্রশাসন নির্বিচারে আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে না। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, উচ্চ আদালত কখনও কখনও এ ধরনের আচরণকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র এক ভিন্নমতে উল্লেখ করেছেন, আদালত যখন বারবার এমন আচরণ উপেক্ষা করে, তখন আইনের শাসনের প্রতি সম্মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ ব্যবস্থায় সমর্থন বেড়ে জরিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ

১

৭ কোটি শিশুর ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ প্রস্তুত,ক্লেইম করতে হবে অভিভাবকদের

২

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে বিবিসিসিআইয়ের মতবিনিময় সভা

৩

বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতিতে ৭০ হাজার ডলারের ফি প্রস্তাব ট্রাম্পের

৪

ব্রাডফোর্ডে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নির্বাচনী প্রচারে গুলজার-কুদ্দুস-মনির প্যানেল

৫

বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি গঠনের দায়িত্ব আহ্বায়ক কমিটির

৬

আমেরিকান নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের

৭

সাবেক মেজরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ট্রাম্পের অনুমোদন

৮

বাংলাদেশিদের মার্কিন ভিজিট ভিসায় সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার বন্ড

৯

দুই দিনব্যাপী দুর্গোৎসবে সাজবে টাইমস স্কয়ার, আয়োজন ১০ ও ১১ অক্টোবর

১০

বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তি, এইচ-১বি ভিসার ১ লাখ ডলারের ফি স্থগিত

১১

মার্কিন প্রবেশপথে বদল আসছে, পাসপোর্ট স্ট্যাম্পের বদলে গুরুত্ব পাবে I-94

১২

৩০ ডলারে কেনা চিত্রকর্ম বিক্রি হলো সাড়ে ১৩ লাখ ডলারে

১৩

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থেকে বৈধ অভিবাসন কমেছে ৯৬ শতাংশ

১৪

কর রিটার্নে নাগরিকত্বের তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের

১৫

২ কোটির বেশি প্রবীণের জন্য এককালীন ৯০ ডলারের ঘোষণা ট্রাম্পের

১৬

জ্যাকসন হাইটসে প্রকাশ্যেই ভুয়া পাসপোর্ট ও গ্রিন কার্ড বিক্রি

১৭

সাইবার সিকিউরিটি প্রশিক্ষণে নতুন ব্যাচ নিচ্ছে USA Consulting Tech

১৮

আমেরিকান পাসপোর্টে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: অনলাইনেই আবেদন, ছবি তোলা যাবে মোবাইলে

১৯

সেন্টার ফর এনআরবির উদ্যোগে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভা

২০