মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এখন থেকে দেশটির নাগরিকরা প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রেও আর কোনো ডাকঘর (Post Office) বা সরকারি দপ্তরে সশরীরে না গিয়ে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সাথে, পাসপোর্টের ছবির জন্য প্রথাগত ফটো বুথ বা স্টুডিওতে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে নাগরিকরা নিজেদের স্মার্টফোন বা ব্যক্তিগত ডিভাইসে ছবি তুলে তা সরাসরি আপলোড করার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এই আধুনিকায়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। মার্কিন নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এবং পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকে শতভাগ ডিজিটাল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পোর্টালের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও নিয়মাবলী:
- ডিজিটাল পোর্টাল ও ট্র্যাকিং: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এআই-চালিত (AI-powered) সরকারি ওয়েব পোর্টাল America.gov-এর মাধ্যমে নতুন আবেদনকারীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। একই সাথে রিয়েল-টাইমে পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা ট্র্যাক করা যাবে। প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শেষের মধ্যে দেশের সিংহভাগ নাগরিক এই অনলাইন সুবিধার আওতায় চলে আসবেন।
- মোবাইল ফটোগ্রাফি ও ফিল্টার নিষেধাজ্ঞা: আবেদনকারীরা ঘরে বসেই নিয়ম মেনে ছবি তুলে পোর্টালে আপলোড করতে পারবেন। চূড়ান্ত সাবমিশনের আগে ছবিটি পাসপোর্টে প্রিন্ট হলে কেমন দেখাবে, তার একটি লাইভ প্রিভিউ দেখা যাবে। তবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ছবিতে কোনো ধরনের এআই (AI) এডিট, বিউটি ফিল্টার বা ডিজিটাল পরিবর্তন ব্যবহার করা যাবে না।
- ২০২৮ সাল থেকে নতুন ডিজাইন: ২০২৮ সাল থেকে ইস্যু হতে যাওয়া নতুন পাসপোর্টের কভারে থাকবে একটি বিশালাকার সোনালী ঈগল। এছাড়া পাসপোর্টের ভেতরের পাতাগুলো দ্রুত ওল্টালে একটি ঈগল পাখি ডানা ঝাপটে উড়ে যাচ্ছে বলে মনে হবে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘জোইট্রোপ ইফেক্ট’ (Zoetrope effect) বলা হয়। ভেতরের পাতাগুলোতে মার্কিন ইতিহাস ও নাসার আর্টেমিস মিশনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হবে।