বাংলা সংবাদ ডেস্ক
১৫ জানুয়ারী ২০২৫, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

‘আগুনে টর্নেডো’র আশঙ্কা, বড় আকারের নতুন দাবানলের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় হিমশিম অবস্থা অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের। এরই মধ্যে আবহাওয়াবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাবানলদুর্গত এলাকাগুলো ‘আগুনে টর্নেডোর’ ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি বিরল হলেও এমন এক বিপজ্জনক অবস্থা, যেখানে দাবানল তার নিজস্ব আবহাওয়া তৈরি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর গতকাল মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছে, দাবানল ছড়িয়ে পড়া এলাকায় বাতাসের তিব্রতা বেশি রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ খুবই শুষ্ক। এ দুইয়ে মিলে এক ‘বিশেষ বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ তৈরি করেছে।

 

আবহাওয়া দপ্তর আরও বলেছে, এ পরিস্থিতিতে বড় আকারের নতুন দাবানল দেখা দিতে পারে। আবহাওয়ার এ পূর্বাভাসে আগুনে টর্নেডোর কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে আবহাওয়াবিদ টড হল বলেছেন, বর্তমান চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় এমন টর্নেডো সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলের কারণে ইতিমধ্যে লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দাবানলে পুড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এ দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পেছনে বড় কারণ সান্তা অ্যানা নামের ঝোড়ো বাতাস। সম্প্রতি বাতাসের গতি কিছুটা কমায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আশার আলো দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বাতাসের গতি আবার বেড়েছে। এতে দাবানল আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

 

লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানল শুরু হয় ৭ জানুয়ারি। সেখানকার প্যালেসেইডস ও এটন দাবানল দুটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ বলা হচ্ছে। এ দুই দাবানলে অন্তত ১৪৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে ছাই হয়েছে। ভৌগোলিক হিসাবে, এ আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটান এলাকার আড়াই গুণ। দাবানলের বিপর্যয়ে অন্তত ১২ হাজার অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয় পুলিশ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, আরও ৫৭ হাজার অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এদিকে তীব্র বাতাসের কারণে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে গতকাল সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ জারি করেছে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর। দাবানলে মৃত মানুষের সংখ্যাও বেড়ে ২৪-এ দাঁড়িয়েছে।

 

দপ্তর জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে আরও এক সপ্তাহ তীব্র বাতাস বয়ে যেতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও ভেনচুরা কাউন্টির কিছু অংশে গত সোমবার রাতে ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে ম্যাজিক মাউন্টেইন এলাকায় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৭২ মাইল। এ ছাড়া মিল ক্রিক, স্যান্ডস্টোন পিক, চিলাও এবং পালো সোলা এলাকায় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬২ মাইল।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বর্ষাকালে বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি, কীভাবে থাকবেন নিরাপদ?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে বিশ্বব্যাপী ব্যবসায় আসছে বড় পরিবর্তন

মরক্কোর মুখোমুখি হওয়ার আগে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় ফ্রান্স

প্রচণ্ড গরমে চোখের সুরক্ষায় যা জানা প্রয়োজন

ইনস্টাগ্রামের এডিটসে নতুন ফিচার, মিলবে দ্বিভাষিক ক্যাপশন ও এআই সহকারী

ইনস্টাগ্রামের এডিটসে নতুন ফিচার, মিলবে দ্বিভাষিক ক্যাপশন ও এআই সহকারী

আনচেলত্তির নেইমার-সিদ্ধান্ত ভুল, দাবি ব্রাজিলের সাবেক তারকার

২০ বছর পর গাজার শাসনভার ছাড়ার ঘোষণা হামাসের

বাংলা সাহিত্য পরিষদ ইউএসএর সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত

খামেনির শেষ বিদায়ে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি, কৃতজ্ঞতা জানাল ইরান

১০

বাকার উদ্যোগে আলাপন ও নৈশভোজ; চার বিশিষ্ট সমাজকর্মীকে সংবর্ধনা

১১

মিশিগানে বড়লেখা ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের বনভোজন সম্পন্ন

১২

স্টুডেন্ট লোনে নতুন অধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য কী বদলাচ্ছে

১৩

ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি: অস্থায়ী সুরক্ষাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

১৪

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষে শুরু ‘দ্য গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’

১৫

সন্ধা নামে : ছন্দা বিনতে সুলতান

১৬

চিঠি লিখি, ডাকবাক্সে হয় না ঢালা : আনোয়ার ইকবাল কচি

১৭

বসুধা : অনামিকা নেওয়াজ

১৮

চাবুকের হিস হিস বনাম ফেড়ারেল আইন : ইশতিয়াক রুপু

১৯

উপনিবেশ থেকে পরাশক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাস

২০