বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়তে থাকে। টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই এ সময় ব্যক্তিগত সতর্কতা ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাসাবাড়ি, অফিস কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ, ফুলের টব, পুরোনো টায়ার, এসির ট্রে, ড্রাম, বালতি বা যেকোনো পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া উচিত নয়। নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার করলে মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমিভাব এবং ত্বকে লালচে দাগ। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করাই ভালো, কারণ কিছু ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন, যেমন তীব্র পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি বা রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, মশারি ব্যবহার, পূর্ণহাতা পোশাক পরা, প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নিজের বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে পারলে ডেঙ্গুর বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন