বাংলা সংবাদ ডেস্ক
১ জুলাই ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারীর জয়, স্টেট সিনেটে নতুন ইতিহাস

 

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কুইন্স এলাকার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী অ্যাবার কাওয়াস। ২৩ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তিনি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন।

 

 

নিউইয়র্কে জন্ম ও বেড়ে ওঠা অ্যাবার কাওয়াস ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অভিবাসনব্যবস্থার সংস্কার, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

 

 

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থন পাওয়া কাওয়াসকে প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারার অন্যতম নতুন মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার বিজয় নিউইয়র্কে প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিফলন।

 

 

কাওয়াস তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ‘Not On Our Dime!’ নামের একটি প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিউইয়র্কভিত্তিক অলাভজনক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ইসরাইলি বসতি কার্যক্রমে অর্থায়ন বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ। প্রচারণার সমর্থকদের দাবি, নিউইয়র্ক থেকে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ইসরাইলি বসতিগুলোতে অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা বন্ধ করা প্রয়োজন।

 

 

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন কার্যক্রমে অর্থায়ন থেকে বিরত রাখার কথা বলা হয়েছে, যেগুলো ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। এ উদ্যোগের সমর্থকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে এসব বসতি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় অর্থায়ন বন্ধ করা উচিত।

 

 

অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছেন, প্রস্তাবিত আইন বাস্তবায়িত হলে কিছু ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে। তারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।

 

 

মেয়র জোহরান মামদানি দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে ইসরাইলি বসতিগুলোতে প্রতিবছর যে বিপুল পরিমাণ অর্থ যায়, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

 

 

অ্যাবার কাওয়াসের এই বিজয়কে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে বৈচিত্র্য, প্রতিনিধিত্ব এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের উত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার জয় মধ্যপ্রাচ্য-সংক্রান্ত ইস্যু এবং প্রগতিশীল রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফ্লোরিডা কিজ: প্রবাল দ্বীপ ও ৪২ সেতুর রহস্য

এক মিনিটে ৩২ ‘টি–শার্ট’ পরে বিশ্ব রেকর্ড

যে দেশে বেতনের বিনিময়ে মা-বাবাকে সময় দেন সন্তানরা

অন্ধ মানুষ স্বপ্নে কী দেখেন?

ইবাদত কবুল হওয়ার শর্তগুলো কী কী

অন্যের হক নষ্ট করে ফেললে করণীয় কী

অন্যের হক নষ্ট করলে যে শাস্তি পাবেন

৯/১১ পরবর্তী ‘ওয়ার অন টেরর’র ধাক্কা আমেরিকা এখন টের পাচ্ছে কি

বাংলাদেশে উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারীর জয়, স্টেট সিনেটে নতুন ইতিহাস

১০

নিউইয়র্কের রাজনীতির নতুন ‘নিয়ন্ত্রক’ মামদানি

১১

নিউইয়র্কে যাত্রা শুরু ‘বাংলাদেশ সেমিট্রি’র, এক লাখের বেশি কবরের পরিকল্পনা, উদ্বোধনের দিনই সম্পন্ন হলো প্রথম দাফন

১২

নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের অভিষেক ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

১৩

নিউজার্সির প্রাইমারি নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুব্রত ও লাকীর জয়

১৪

মিশিগানে আইনি সহায়তায় আস্থার প্রতীক ‘মুমেন বারলাস্কার ল ফার্ম’

১৫

মিশিগানে আধুনিক দন্তচিকিৎসায় আলো ছড়াচ্ছে ‘হ্যাপি স্মাইল ফ্যামিলি ডেন্টাল’ ও ‘টিউলিপস ফ্যামিলি ডেন্টাল’

১৬

হালাল হোম ফাইন্যান্সিংয়ে মিশিগানের জনপ্রিয় নাম ‘বেস্ট রেট ’

১৭

মিশিগানে আধুনিক রিয়েল এস্টেট সেবায় সুনাম কুড়াচ্ছে ‘মাইলিভিং বাই আমেরিকান রিয়েলটরস’

১৮

মিশিগানে কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার প্রতীক ‘এ টু জেড ফার্মেসি’

১৯

স্বপ্নের পথে বাধা: মিশিগানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা

২০