নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রচলিত ক্ষমতার কাঠামো ও রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনে তার সমর্থিত একাধিক প্রার্থীর সাফল্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে তাকে নিউইয়র্ক ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির নতুন শক্তিকেন্দ্র বা ‘পাওয়ার ব্রোকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনে মামদানির সমর্থন পাওয়া কয়েকজন প্রগতিশীল ও বামঘেঁষা প্রার্থীর সাফল্য ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলকে অনেকেই দলের প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব ও নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল রাজনীতিকদের মধ্যকার শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
নির্বাচন-পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে জোহরান মামদানি বলেন, গত বছরের রাজনৈতিক সাফল্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং তা ছিল একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ভোটাররা সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।
তবে মামদানির উত্থান ডেমোক্রেটিক পার্টির সব মহলে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তার রাজনৈতিক কৌশল ও জোট গঠনের ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, মামদানি দলীয় ঐক্যের চেয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিশেষ করে নিউইয়র্কের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট নেতা মনে করছেন, প্রগতিশীল রাজনীতির দ্রুত বিস্তার দলের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভারসাম্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অন্যদিকে মামদানির সমর্থকরা বলছেন, তিনি মূলত তরুণ ভোটার, শ্রমজীবী মানুষ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে রাজনৈতিক মূলধারায় নিয়ে আসছেন।
পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মামদানির অবস্থান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা দেখা গেছে। সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, এসব অবস্থান নিউইয়র্কের কিছু ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে তার সমর্থকদের দাবি, তিনি মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নীতিগত অবস্থান বজায় রেখেছেন।
এদিকে মেয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বলছেন, তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা করপোরেট স্বার্থের দ্বারা পরিচালিত নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক বিষয়কে কেন্দ্র করেই তাদের আন্দোলন এগিয়ে চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক রাজনীতিতে বর্তমানে যে পরিবর্তনের ধারা দেখা যাচ্ছে, তার কেন্দ্রে রয়েছেন জোহরান মামদানি। তার নেতৃত্বে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রভাব আগামী বছরগুলোতে আরও বিস্তৃত হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট করেছে যে নিউইয়র্কের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি এখন অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন