মানুষ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। অন্যান্য সৃষ্টির পরিচয় আর মানুষের পরিচয় এক নয়। আল্লাহ তাআলা মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা করে সৃষ্টি করেছেন। সম্মান ও মর্যাদায় পৃথিবীর সবকিছু থেকে অনন্যাতা দিয়েছেন। আর তাদের ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তাআলা।
সুরা জারিয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষ ও জিন জাতিকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন মর্মে ঘোষণা দেন। যেন মানুষ জীবনের প্রতিটি কাজই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। (সুরা যারিয়াত: আয়াত ৫৬)
তবে ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে।
১. ইবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন,
আরও পড়ুন: মহান আল্লাহ যেসব বান্দাকে নিয়ে গর্ব করেন
وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ করা হয়েছে যে, তারা খাঁটি বিশ্বাসের সাথে এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্র ইবাদত করবে (সুরা বাইয়্যেনাহ ৫)
২. ইবাদত রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত পদ্ধতিতে হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন,
قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালোবাসবেন (আলে ইমরান ৩১)। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ যে ব্যক্তি আমাদের নির্দেশের বাইরে কোনো আমল করলো, তার সেই আমল প্রত্যাখ্যাত (মুসলিম)
মহান আল্লাহ যখন মানব সৃষ্টির ইচ্ছা করেন, ফেরেশতাদের সামনে বিষয়টি পেশ করলেন। ফেরেশতারা বললেন, এরা তো জমিনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে, খুনখারাবি করবে। আপনার প্রশংসা ও উপাসনার জন্য তো আমরাই যথেষ্ট। মহান আল্লাহ সংক্ষিপ্ত বাক্যে সারগর্ভ জবাব দিয়েছিলেন যে, আমি যা জানি তোমরা তা জানো না।
এখন বান্দা যদি এমন কোনো কর্ম সম্পাদন করে, যাতে মহান আল্লাহর প্রতি নিরলস আনুগত্য প্রকাশ পায় এবং তার প্রতি গভীর ভক্তি-ভালোবাসা প্রকাশ পায়। তখন মহান আল্লাহ খুশি হন এ ফেরেশতাদের সাথে তার আলোচনা করেন।
মন্তব্য করুন