৩ জুলাই ২০২৫, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের নতুন বিল অভিবাসী আদালতের জটিলতা বাড়াবে

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর একটি অভিবাসী আদালত থেকে বেরোনোর পর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টরা আটক করেন সৈয়দ নাসের নামের এক আফগান নাগরিককে, যিনি কয়েক বছর ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য অনুবাদকের কাজ করেছেন।

 

নাসের যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় প্রার্থীদের জন্য যেটুকু প্রত্যাশিত-সব কিছুই করেছিলেন। তালেবান যোদ্ধারা যখন তার ভাইকে হত্যা করে এবং বাবাকে অপহরণ করে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করায় তখন তিনি ও তার পরিবার ব্রাজিলে পালিয়ে যান এবং সেখান থেকে দীর্ঘ ও বিপজ্জনক পথ পেরিয়ে হেঁটে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০২৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যেখানে সরকার তাকে পারোল স্ট্যাটাসে দেশে প্রবেশ করতে দেয়। পরে তিনি অ্যাসাইলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করা বিদেশিদের জন্য তৈরি ‘স্পেশাল ইমিগ্রান্ট ভিসা’ (এসআইভি)-এর আবেদন করেন।

 

 

১১ জুন ২০২৫-এ তিনি অ্যাসাইলাম আবেদনের অংশ হিসেবে তাঁর প্রথম শুনানিতে হাজির হন। কিন্তু আদালতে পৌঁছানোর পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মামলাটি ‘ভুলভাবে জারি’ হয়েছে। এরপর কোর্টরুমের বাইরে অপেক্ষমাণ আইসিই এজেন্টরা তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি ডিটেনশনে আছেন, আর তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। যদিও ঘটনাটি চমকপ্রদ, তবু নাসেরের এই পরিণতি আজকাল আর বিরল কিছু নয়। মে মাস থেকে আইসিই এজেন্টরা প্রতিদিন ৩,০০০ জন আটক করার কোটা পূরণের লক্ষ্যে আদালত থেকে বের হওয়া শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করছেন।

 

 

এক সময় কোর্ট এলাকা থেকে আটক করা নিষিদ্ধের কাছাকাছি ছিল এবং যৌক্তিক কারণেই। এই ধরনের কর্মকাণ্ড অভিবাসীদের সামনে এক অসম্ভব পছন্দ রেখে দেয়: আইনি পথে গিয়ে অ্যাসাইলাম বা গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করে নিজেই নিজেকে গ্রেপ্তারের ঝুঁকিতে ফেলুন, অথবা অনুপস্থিত থাকুন এবং নিজ অধিকার ত্যাগ করে অনুপস্থিতিতে ডিপোর্টেশন অর্ডার পান। পাশাপাশি, আদালতে প্রবেশাধিকার ব্যাহত হওয়ার আরেকটি কম দৃশ্যমান পথ তৈরি হয়েছে। যদি ট্রাম্পের বাজেট রিকনসিলিয়েশন বিল বর্তমান আকারে পাস হয়, তবে নাসেরের মতো অভিবাসী ও অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের আদালতে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে অতিরিক্ত ফির কারণে।

 

 

বিলে বলা হয়েছে, যারা প্যারোলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবেন, তাদের প্রবেশের সময় ১,০০০ ডলার এবং ওয়ার্ক পারমিটের জন্য ৫৫০ ডলার দিতে হবে। প্যারোলে নবায়নের জন্য প্রতি ছয় মাস অন্তর আরও ৫৫০ ডলার। এরপর অ্যাসাইলামের জন্য আবেদনে আরও ১,০০০ ডলার ফি। আর যদি শুনানির জন্য অতিরিক্ত সময় লাগে, তাহলে প্রতি ‘কন্টিনুয়েন্স’ আবেদনের জন্য অতিরিক্ত ১০০ ডলার দিতে হবে। যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগপীড়িত দেশ থেকে আগত শিশু বা অন্যান্য আবেদনকারীর জন্যও একই রকম ফি প্রযোজ্য হবে।

 

 

যে নাসের ব্রাজিল থেকে হেঁটে এসেছে, তার পক্ষে এমন হাজার হাজার ডলার জোগাড় করা সম্ভব নয় আর অধিকাংশ আবেদনকারীর ক্ষেত্রেও তাই। এই ফি কার্যত কেবল ধনীদের জন্য আদালতের দরজা খুলে রাখবে। আইন অনুসরণ করে আদালতে হাজির হয়ে যারা সঠিক পথ বেছে নেয়, তাদের গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে যাওয়ার ফি এত বেশি নির্ধারণ করে আমরা আমাদের দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ভিত্তিকেই দুর্বল করে ফেলছি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম ও চতুর্দশ সংশোধনীর অধীনে সংরক্ষিত ‘ডিউ প্রসেস’ বলে সরকার কাউকে জীবনের, স্বাধীনতার বা সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার আগে আদালতে প্রমাণসহ শুনানি দিতে বাধ্য।

 

 

ডিউ প্রসেস শুধু অভিবাসীদের নয়, এমনকি অভিবাসী বলে ভুলভাবে শনাক্ত হওয়া নাগরিকদেরও রক্ষা করে। এটি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার অধিকার, যেটি শিশুদের কাছ থেকে আলাদা করা, কারাগারে প্রেরণ বা সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার আগেও আদালতের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করে। আদালতের কাজ হলো সবাইকে আইনের চোখে সমানভাবে বিচার করা এবং সরকারকে ন্যায্য প্রক্রিয়া অনুসরণে বাধ্য করা। এটি নির্বাহী ও আইন পরিষদ শাখার ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যালান্স।

 

যখন ডিউ প্রসেস ভেঙে পড়ে এবং মানুষ আর আদালতে যাওয়ার সাহস বা সামর্থ্য পায় না তখন শুধু অভিবাসী সমাজই আতঙ্কে ভোগে না, পুরো বিচার ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে। আর এটি আমাদের সবার জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়।

 

-সূত্র: সমকাল

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রচণ্ড গরমে চোখের সুরক্ষায় যা জানা প্রয়োজন

ইনস্টাগ্রামের এডিটসে নতুন ফিচার, মিলবে দ্বিভাষিক ক্যাপশন ও এআই সহকারী

ইনস্টাগ্রামের এডিটসে নতুন ফিচার, মিলবে দ্বিভাষিক ক্যাপশন ও এআই সহকারী

আনচেলত্তির নেইমার-সিদ্ধান্ত ভুল, দাবি ব্রাজিলের সাবেক তারকার

২০ বছর পর গাজার শাসনভার ছাড়ার ঘোষণা হামাসের

বাংলা সাহিত্য পরিষদ ইউএসএর সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত

খামেনির শেষ বিদায়ে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি, কৃতজ্ঞতা জানাল ইরান

বাকার উদ্যোগে আলাপন ও নৈশভোজ; চার বিশিষ্ট সমাজকর্মীকে সংবর্ধনা

মিশিগানে বড়লেখা ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের বনভোজন সম্পন্ন

স্টুডেন্ট লোনে নতুন অধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য কী বদলাচ্ছে

১০

ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি: অস্থায়ী সুরক্ষাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

১১

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষে শুরু ‘দ্য গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’

১২

সন্ধা নামে : ছন্দা বিনতে সুলতান

১৩

চিঠি লিখি, ডাকবাক্সে হয় না ঢালা : আনোয়ার ইকবাল কচি

১৪

বসুধা : অনামিকা নেওয়াজ

১৫

চাবুকের হিস হিস বনাম ফেড়ারেল আইন : ইশতিয়াক রুপু

১৬

উপনিবেশ থেকে পরাশক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাস

১৭

দারুণ মজা: রাজশাহীর কালাই রুটি খেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা

১৮

ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে রোবট

১৯

ফ্লোরিডা কিজ: প্রবাল দ্বীপ ও ৪২ সেতুর রহস্য

২০