একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হলে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন যা সমতা, ক্ষমতার বিভাজন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের পরিবর্তে একটি প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া থাকা উচিত যা দেশের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়। এ লক্ষ্যে আমরা কিছু প্রস্তাবিত পদক্ষেপ নিচে উল্লেখ করেছি:

- ১. একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।
- ২. প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার সুস্পষ্ট বিভাজন থাকতে হবে।
- ৩. ৬৫ বছরের বেশি বয়সী কেউ সংসদ সদস্য হতে পারবেন না।
- ৪. কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি মন্ত্রী হতে পারবেন না।
- ৫. একজন ব্যক্তি তিনবারের বেশি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারবেন না।
- ৬. ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।
- ৭. সংবিধান, আইন, বিচার, নির্বাচন, শিক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।
- ৮. ক্ষমতাসীন অবস্থায় নির্বাচন পরিচালনার অনুমতি দেওয়া যাবে না।
- ৯. চারটির বেশি রাজনৈতিক দল জোট গঠন করতে পারবে না।
- ১০. কোনো রাজনৈতিক দল সংসদে ১৬০টির বেশি আসন রাখতে পারবে না।
- ১১. দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে হবে।রাষ্ট্রপতির পরামর্শ নিয়ে কাজ করবে।
- ১২. পুলিশকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে রিপোর্ট করতে হবে, সরকারকে নয়।
- ১৩. প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকটা গ্রুপ থাকে যা উপদেষ্টা কমিটি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আছে, আমরা সেই কমিটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রস্তাব দিতে পারি।
- ১৪. প্রতিটি মন্ত্রীর জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দলের ব্যবস্থা করতে হবে।
- ১৫. জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদা বোঝার জন্য একটি গবেষণা দল গঠন করতে হবে।
- ১৬. সরকার টিভি চ্যানেল ও সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
- ১৭. সংসদীয় কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করা: সরকারি কর্মকাণ্ড ও ব্যয় তত্ত্বাবধানে সংসদীয় কমিটিগুলোর ক্ষমতা ও স্বাধীনতা বৃদ্ধি করা।
- ১৮. স্বাধীন নির্বাচন কমিশন: রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনকে শক্তিশালী করা।
- ১৯. স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন: স্থানীয় সরকারগুলিকে আরও স্বায়ত্তশাসন ও সংস্থান প্রদান করে শক্তিশালী করা।
- ২০. বিচার বিভাগীয় নিয়োগে স্বচ্ছতা: বিচারক নিয়োগের জন্য একটি স্বচ্ছ ও যোগ্যতা-ভিত্তিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা।
- ২১. শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা: সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং দুর্নীতির সুযোগ কমাতে কঠোর স্বচ্ছতা আইন প্রবর্তন করা।
- ২২. দুর্নীতির প্রতিবেদন করতে নাগরিকদের উৎসাহিত করার জন্য শক্তিশালী হুইসেল ব্লোয়ার সুরক্ষা আইন প্রবর্তন করা।
- ২৩. নাগরিক অধিকার সুরক্ষা: নাগরিকদের মতামত প্রকাশ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য আইনগুলোকে শক্তিশালী করা।
- ২৪. অনাস্থা ভোট: অনাস্থা ভোটের প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণ করা সহজ করা।
- ২৫. কার্যনির্বাহী ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: প্রধানমন্ত্রীর কিছু নির্বাহী ক্ষমতা অন্য অফিসে পুনঃবন্টন করা।
- ২৬. দ্বৈত কার্যনির্বাহী মডেল: রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানের ভূমিকা পৃথক করে আধা-রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- ২৭. সুশীল সমাজের ক্ষমতায়ন: সুশীল সমাজকে সমর্থন প্রদান করে সরকারকে জবাবদিহি করতে সক্ষম করা।
- ২৮. প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় সাংসদ গণশুনানির ব্যবস্থা করতে হবে।
- লেখক:
জাবেদ খান
সামাদ চৌধুরী
নাঈমুল ইসলাম