যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অভিবাসন আদালতগুলোতে অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন ফেডারেল বিচারক পি. কেভিন ক্যাসটেল। এই আদেশের ফলে ম্যানহাটনের অভিবাসন আদালতগুলোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) আগের মতো ব্যাপক গ্রেপ্তার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আদালতের আগের সিদ্ধান্তে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, যা সংশোধন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আদালত ভবনের ভেতরে কিংবা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের নীতি এখন আর নির্বিঘ্নে চালু রাখা যাবে না, কারণ এটি ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমন নীতির অংশ হিসেবে আদালতে উপস্থিত হওয়া অভিবাসীদের গ্রেপ্তার শুরু করে আইসিই। নিয়মিত শুনানিতে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের হঠাৎ আটক করা এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে নিউইয়র্কের ২৬ ফেডারেল প্লাজা ভবনে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত ঘটতে থাকায় মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় রাজনীতিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এই নীতির বিরুদ্ধে ডোর এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামের দুটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন আদালতে মামলা দায়ের করে। সংগঠনগুলোর অভিযোগ ছিল, আদালতে গ্রেপ্তারের আতঙ্কে অনেক অভিবাসী নিজেদের মামলার শুনানিতে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন, যা বিচার ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। পাশাপাশি তারা দাবি করে, আদালতে গ্রেপ্তারের এই নীতি দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথার ব্যত্যয় এবং এতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রথমদিকে সরকার পক্ষ এই নীতিকে বৈধ বলে দাবি করলেও পরে প্রসিকিউটর অফিস এক চিঠিতে জানায়, নীতিগত ব্যাখ্যায় একটি “প্রশাসনিক ভুল” হয়েছিল। এরপর মামলাটি নতুন মোড় নেয় এবং বিচারক আগের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করেন। নতুন রায়ের ফলে নিউইয়র্কের ২৬ ফেডারেল প্লাজা, ২০১ ভারিক স্ট্রিট এবং ২৯০ ব্রডওয়ের অভিবাসন আদালতে আইসের গ্রেপ্তার কার্যক্রম এখন কঠোরভাবে সীমিত থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্ত পুরো যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হবে না; এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রযোজ্য।
মানবাধিকার আইনজীবীরা এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। নিউইয়র্ক সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে অভিবাসীরা গ্রেপ্তারের ভয় ছাড়াই আদালতে গিয়ে নিজেদের মামলা পরিচালনা করতে পারবেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে বিষয়টি আবারও আইনি জটিলতায় যেতে পারে। অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, অবৈধ অভিবাসীদের আটক করা আইনসঙ্গত ও প্রয়োজনীয়। তাদের মতে, আইন লঙ্ঘনকারীদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই আটক করা সরকারের দায়িত্বের অংশ।
বিচারক পি. কেভিন ক্যাসটেল জানিয়েছেন, এই রায় এখনো চূড়ান্ত নয় এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি বাকি রয়েছে। সরকারের আগের অবস্থান পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও পরবর্তী ধাপে নির্ধারণ করা হবে। এই রায়কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে স্বস্তির সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলেও প্রশাসনের দাবি, আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের শিথিলতা গ্রহণযোগ্য নয়।
মন্তব্য করুন