যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ডেট্রয়েটভিত্তিক স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠান ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অব মিশিগান এবং মিশিগান মেডিসিনের মধ্যে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় প্রায় আড়াই লাখ রোগীকে বিকল্প চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী খুঁজতে বলা হয়েছে।
মিশিগান মেডিসিন কর্তৃপক্ষ গত ২ মার্চ ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অব মিশিগানকে জানায়, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নতুন চুক্তি না হলে তারা ইন-নেটওয়ার্ক চিকিৎসাসেবা বন্ধ করবে। ফলে বর্তমান চুক্তির আওতায় চিকিৎসা নেওয়া বিপুল সংখ্যক রোগী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। তবে গুরুতর বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধা রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। গর্ভবতী নারী, ক্যানসার রোগী কিংবা দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ‘কন্টিনিউটি অব কেয়ার’ সুবিধার আওতায় সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ইন-নেটওয়ার্ক হারে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অব মিশিগান।
মূলত ক্ষতিপূরণ বা রিইম্বার্সমেন্ট হার নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতবিরোধের কারণেই আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। মিশিগান মেডিসিনের দাবি, বীমা প্রতিষ্ঠানটি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত রেট কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অব মিশিগানের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত রেট বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মিশিগান মেডিসিনের প্রধান ক্লিনিক্যাল স্ট্র্যাটেজিক কর্মকর্তা স্কট ফ্ল্যান্ডার্স দ্য মিশিগান ডেইলিকে বলেন, তারা বিদ্যমান চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান এবং সেবার মান, রোগীদের অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসা ব্যয়ের দক্ষতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত পারফরম্যান্সভিত্তিক পারিশ্রমিকের সুযোগ চান।
অন্যদিকে ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অব মিশিগানের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক মেগান ও’ব্রায়েন বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো মিশিগান মেডিসিনকে নেটওয়ার্কের মধ্যে রাখা এবং একই সঙ্গে সদস্যদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখা। স্কট ফ্ল্যান্ডার্স বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে তারাও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে হাসপাতালের অর্থপ্রাপ্তি কমিয়ে দিলে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা ও সেবার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইউনাইটেড মিশিগান মেডিসিন অ্যালাইড প্রফেশনালস ইউনিয়নের সভাপতি পেনি টনি বলেন, হাসপাতালগুলো রোগীদের চিকিৎসায় যে ব্যয় করছে তা ফেরত না পেলে কর্মীদের পারিশ্রমিক দেওয়া এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তার ভাষায়, কম রিইম্বার্সমেন্টের ফলে বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত সেবা প্রদান বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মিশিগান মেডিসিন সবচেয়ে জটিল রোগীদের সেবা দিয়ে থাকে, কিন্তু সে অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পায় না। এর প্রভাব চিকিৎসাকর্মীদের মনোবল ও সেবার পরিবেশের ওপরও পড়ছে।
মন্তব্য করুন