দীর্ঘ ৩৬ বছর অপেক্ষার পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন লিওনেল মেসি এবং তার মাতৃভূমি আর্জেন্টিনা। ফাইনালে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপার অর্জন করে নিলো তারা।
টাইব্রেকারের আগে আর্জেটিনা ৩ গোল করলেও ফ্রান্স শেষার্ধে ৩ গোল দিয়ে ফাইনালে সমতা ফিরিয়ে নিয়ে আসে যেখানে ফ্রান্সের হয়ে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন ফেরাসি তারকা এমবাপে এবং আর্জেটিনার হয়ে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি।
মেসির করা দ্বিতীয় গোলটি, যেটা ছিল আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল সেই গোলটি নিয়ে বিশ্বকাপের পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, মেসির ওই গোলটি ছিল বৈধ ছিলনা। কেন সেই গোলটি বাতিল করা হবে না, সে প্রশ্নও উঠতে শুনা যাচ্ছে। অথচ মেসি গোলটি সেটি ঠিকই ছিল।
এবারের বিশ্বকাপে যেহেতু সবচেয়ে আধুনিক টেকনোলজির ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখানে সেই গোলটি কেন চেক করা হয়নি, কেন গোলটি সত্যিই বৈধ ছিল কি না- তা দেখা হলো না, তা নিয়ে তুমুল তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ফাইনালের পর ওই ম্যাচের ফুটেজ দেখে ফুটবলপ্রেমিরা মনে করেন মেসির দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করে দেওয়া উচিত। কারণ ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে গোল করা গ্রাহ্য নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় গোলের ভিডিও পোস্ট এবং শেয়ার করে সরব করছেন নেটিজেনরা। বিশেষ করে ফ্রান্সে এ নিয়ে সমালাচনার ঝড় উঠেছে।
কেন মেসির ঐ গোলটি বাতিলের দাবি উঠছে? নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোল ফলাফলে ম্যাচ শেষ হয়। এরপর অতিরিক্ত সময়ে প্রথম গোলটি আসে মেসির কাছ থেকেই। শেষ মুহূর্তে ফান্সের ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করলেও দেরি হয়ে গিয়েছিল। গোললাইন পেরিয়ে গিয়েছিল মেসির শট। আপাতদৃষ্টিতে গোল নিয়ে কোনও সমস্যা চোখে পড়েনি।
কিছুক্ষণ খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে গোলের সিদ্ধান্ত জানান রেফারি। কিন্তু খেলার শেষেই শুরু হয় বিতর্ক। বেশ কয়েকটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মেসি যখন গোল লক্ষ্য করে শট নিচ্ছেন, সে সময়ে মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন বেঞ্চে থাকা আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা।
রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা ফুটবলাররা যদি মাঠে প্রবেশ করেন, তখন গোল হলে সেটা বাতিল করে দেয়ার বিধান রয়েছে ফিফার নিয়মে। আর তাই এ নিয়ম এবং যুক্তিতেই মেসির গোলটি বাতিল করার দাবি জানাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
এ ব্যাপারে সবথেকে বেশি সোচ্চার ফরাসি সংবাদপত্রগুলো। সেখানে বলা হয়েছে, ‘পুরো ম্যাচে একবারে নিয়ম মেনে খেলেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা নিয়মের তোয়াক্কা না করে মাঠে ঢুকে পড়েছিল। এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।’
যদিও এখন আর কিছু করার নেই। কারণ, এমন সব ক্ষেত্রে মাঠে থাকা রেফারির সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে মেনে নিতে হবে। তিনি যেহেতু গোল বাতিল করেননি, তাই মেসির গোল বাতিল হওয়ারও আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
মন্তব্য করুন