
সিলেট অঞ্চলে তিন ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। দেশী-বিদেশী তিনটি জ্বালানি তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও জরিপকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য-উপাত্তে উঠে এসেছে।
সিলেট গ্যাসফিল্ড লিমিটেডের (এসজিএফসিএল) আওতাধীন স্থলভাগে গ্যাস ব্লক ১৩ ও ১৪-এর পাঁচটি এলাকায় এরই মধ্যে থ্রিডি সিসমিক সার্ভে শুরু করেছে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) অধীন অনুসন্ধান ও জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ব্যুরো অব জিওফিজিক্যাল প্রসপেক্টিং (বিজিপি)।
এসজিএফসিএলের পক্ষ থেকে ২ মার্চ গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ এলাকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। জ্বালানি বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে এসজিএফসিএলের আওতাধীন গ্যাস মজুদ, উত্তোলন এবং সিলেট ও মৌলভীবাজারের পাঁচটি গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ এলাকার তথ্য উঠে আসে।
এতে দেখানো হয়, ব্লক ১৩ ও ১৪-এর আওতাভুক্ত মৌলভীবাজার জেলার হারারগজ, বাতচিয়া ও ডুপিটিলা এবং সিলেট দক্ষিণ ও জকিগঞ্জ এলাকায় ২ হাজার ৮১৩ বিসিএফ গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ রয়েছে। দেশী জ্বালানি তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স, মার্কিন কোম্পানি শ্লুমবার্জারস ও অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ওয়েলড্রিল সম্ভাব্য গ্যাস মজুদের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় সমীক্ষা চালায়।
এর মধ্যে মৌলভীবাজারের হারারগঞ্জে ৪৯২ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ), একই জেলার বাতচিয়ায় ৫৭৭ বিসিএফ, ডুপিটিলায় ৬৭৯ বিসিএফ, সিলেটের জকিগঞ্জ/আটগ্রামে ৮৮৬ বিসিএফ ও সিলেট দক্ষিণে ১৭৯ বিসিএফ সম্ভাব্য গ্যাস মজুদ রয়েছে।
জোরালো গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এরই মধ্যে এসব এলাকায় থ্রিডি সিসমিক সার্ভে শুরু করেছে চীনা কোম্পানি বিজিপি। জরিপের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে কোম্পানিটির আগামী আগস্ট নাগাদ এসজিএফসিএলের কাছে ফলাফল উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে এ দুটি ব্লকে থ্রিডি সিসমিক সার্ভের ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে চীনা অনুসন্ধানকারী দলটি।
গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ এলাকাগুলো চিহ্নিত করতে শুরুতে টুডি এবং পরে থ্রিডি সিসমিক সার্ভে করা হয়। এরপর সেসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কূপ খনন এলাকা চিহ্নিত করা হয়। সম্ভাবনা খুব জোরালো হলেই কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়।
স্থলভাগের ১৩ ও ১৪ নম্বর ব্লকে এখন থ্রিডি সিসমিক সার্ভে চলছে। ওই অঞ্চল ও সংলগ্ন এলাকায় বেশকিছু গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার অবস্থানও ১৩ ও ১৪ নম্বর ব্লকের কাছে। ফলে সেখানেও গ্যাস পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন ভূতাত্ত্বিকরা।
মন্তব্য করুন