যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার জালিয়াতির তদন্তে ফেডারেল কর্মকর্তাদের তৎপরতা নিয়ে নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফেডারেল কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের অভিবাসন অবস্থা ও ভোট দেওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন করছেন।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির দাবি, নর্থ ক্যারোলাইনায় কয়েকজন গ্রিন কার্ডধারীসহ কিছু ব্যক্তিকে অতীতের নির্বাচনে নিজেদের মার্কিন নাগরিক পরিচয় দিয়ে ভোট দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি ও প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
নিউইয়র্কের অভিবাসী অধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের তদন্তের খবর বৈধ ভোটারদের মধ্যেও ভীতি তৈরি করতে পারে। তাঁদের মতে, নাগরিকত্ব ও ভোটার যোগ্যতা যাচাইয়ের নামে বৈধ বাসিন্দা ও অভিবাসীদের হয়রানি করা উচিত নয়।
ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার মূলত মার্কিন নাগরিকদের। গ্রিন কার্ডধারীরা সাধারণত ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। তবে শুধু গ্রিন কার্ড থাকা কোনো ব্যক্তিকে ভোট জালিয়াতির জন্য দায়ী করা যায় না; নির্দিষ্ট ঘটনা ও প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগ যাচাই করতে হয়।
বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্ব, ভোটার নিবন্ধন বা অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা এবং কোনো কর্মকর্তা যোগাযোগ করলে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করার পর প্রয়োজন হলে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈধ ভোটারদের অধিকার ও অভিবাসী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তদন্তের পরিধি ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে।
মন্তব্য করুন