বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত নগরকেন্দ্র নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে আবারও বর্ণিল আয়োজনে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হলো শাড়ির ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। রোববার (২৩ আগস্ট) টাইমস স্কয়ারের ফাদার ডাফি স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হল তৃতীয় বার্ষিক ‘সাড়ি গোজ গ্লোবাল ইউএসএ ২০২৬’ অনুষ্ঠান।
স্থানীয় সময় সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারীরা যোগ দেন। নানা রঙ, নকশা ও বৈচিত্র্যের শাড়িতে সেজে নারীরা অংশ নেন ‘সাড়ি ওয়াকাথন’ ও রাম্প ওয়াকে। পাশাপাশি ছিল সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠন উমা গ্লোবাল এবং নিউইয়র্কে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেলের অংশীদারত্বে এ আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শাড়িকে শুধু একটি পোশাক হিসেবে নয়, বরং ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিল্প, ঐক্য ও নারীর ক্ষমতায়নের বৈশ্বিক প্রতীক হিসেবে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
টাইমস স্কয়ারের ব্যস্ততম চত্বরে বিভিন্ন দেশের নারীদের শাড়ি পরিহিত অংশগ্রহণ পুরো এলাকাকে পরিণত করে এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। বিভিন্ন ধরনের শাড়ি, ঐতিহ্যবাহী কাপড় ও নকশার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ বস্ত্র ও কারুশিল্পের ইতিহাস।
‘সাড়ি গোজ গ্লোবাল’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. দীপ্তি জৈন। নিউইয়র্কের আয়োজক সংগঠন উমা গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ডা. রিতা কাকাটি-শাহও এই উদ্যোগের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের উদ্যোগে শাড়িকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলার পাশাপাশি তাঁতি ও কারুশিল্পীদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ এবং তাদের কাজের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তৈরির চেষ্টা চলছে।

টাইমস স্কয়ারে ‘সাড়ি গোজ গ্লোবাল’-এর আয়োজন এবার তৃতীয় বছরে পা দিয়েছে। এর আগের আয়োজনগুলোতেও ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ অংশ নেন। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় আয়োজনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে টাইমস স্কয়ার পরিণত হয়েছিল বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক মিলনস্থলে।
২০২৪ সালের প্রথম আয়োজনেও ৫০০-এর বেশি নারী অংশ নিয়েছিলেন। সেবার বাংলাদেশসহ অন্তত নয়টি দেশের নারীরা শাড়ি পরে টাইমস স্কয়ারে অংশ নেন এবং সংগীত, নৃত্য ও ‘সাড়ি ওয়াকাথন’-এর মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। আয়োজকদের মতে, শাড়ির কোনো নির্দিষ্ট সীমান্ত নেই। এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করা একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, যা ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষকে একত্রিত করতে পারে। আর নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত স্থানে এর আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
‘সাড়ি গোজ গ্লোবাল’-এর মধ্য দিয়ে তাই শুধু শাড়ির প্রচার নয়, বরং নারীর আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং বিশ্বজুড়ে পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন