প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের মূল প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (TMTG) বছরের শুরুতেই এক ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোম্পানিটি জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে প্রায় ৪০ কোটি ৬০ লাখ ডলার লোকসান গুনেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই বিশাল অংকের লোকসানের বিপরীতে কোম্পানিটির আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারের সামান্য বেশি। যদিও গত বছরের তুলনায় তাদের নেট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু ডিজিটাল সম্পদ এবং অন্যান্য খাতে ভুল বিনিয়োগের কারণে এই বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের।
এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির পেছনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ২০২৫ সালে করা বিটকয়েন বিনিয়োগের নাম। সে সময় বিটকয়েনের বাজার যখন তুঙ্গে ছিল, তখন কোম্পানিটি একটি ‘বিটকয়েন ট্রেজারি’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের বিটকয়েন কিনেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিশ্ববাজারে ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়ায় কোম্পানিটিকে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই লোকসানের সিংহভাগই এসেছে ডিজিটাল সম্পদ এবং ইক্যুইটি সিকিউরিটিজের অনাদায়ী মূল্যহ্রাস থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এছাড়া কর্মকর্তাদের স্টক-ভিত্তিক বেতন এবং সুদ বাবদও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে।
এত বড় অংকের ক্ষতির পরেও কোম্পানির অন্তর্বর্তীকালীন সিইও কেভিন ম্যাকগার্ন বেশ আত্মবিশ্বাসী। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প মিডিয়ার ব্যালেন্স শিট এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তারা তাদের ব্যবসায়িক অবকাঠামো বৃদ্ধিতে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ট্রুথ সোশ্যালকে বাকস্বাধীনতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই এই প্ল্যাটফর্মে নতুন কিছু উদ্ভাবনী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার নিউক্লিয়ার ফিউশন কোম্পানি ‘টিএই টেকনোলজিস’-এর সাথে ৬০০ কোটি ডলারের প্রস্তাবিত একীভূতকরণ চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ করেন, যা মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডাটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার পর মূলধারার সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকে নিষিদ্ধ হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছিলেন। এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করলেও ব্যবসায়িকভাবে এটি এখনো জনপ্রিয় বা লাভজনক হয়ে উঠতে পারেনি। একদিকে নিউক্লিয়ার ফিউশনের মতো অনিশ্চিত প্রযুক্তি আর অন্যদিকে বিটকয়েনের দরপতন—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই মিডিয়া সাম্রাজ্য এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবুও নতুন নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ খুঁজে বের করার মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহীরা।
মন্তব্য করুন