যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর একটি ইসলামিক সেন্টারে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মিশিগানের ইমাম কাউন্সিল। বুধবার (২০ মে) ডেট্রয়েটে আয়োজিত এক সভায় ধর্মীয় নেতারা এ হামলাকে মানবতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি সংঘটিত ওই হামলায় তিনজন নিহত হন। পরে হামলায় জড়িত দুই কিশোর সন্দেহভাজন আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। সভায় অংশ নেওয়া ইমামরা বলেন, বিশ্বজুড়ে ইসলামবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও ঘৃণাপ্রসূত সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু মুসলিম সম্প্রদায় নয়, যেকোনো ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা সমাজের শান্তি ও সহাবস্থানের জন্য বড় হুমকি।
মিশিগানের ইমাম কাউন্সিলের সদস্য ইমাম স্টিভ মুস্তাফা এলতুর্ক বলেন,
“পবিত্র কোরআন সব উপাসনালয়ের পবিত্রতা এবং মানবজীবনের মর্যাদা শিক্ষা দেয়। মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান, লাতিনো, অভিবাসীসহ যেকোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সহিংসতা রোধে সব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ইমামরা মসজিদ, গির্জা, সিনাগগসহ সব উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা “অ্যাকটিভ শুটার” পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, জরুরি প্রস্তুতি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বলছেন, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় সম্প্রদায়, নিরাপত্তা সংস্থা ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি। সান ডিয়েগোর এ মর্মান্তিক ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহনশীলতা জোরদারের দাবিও আরও জোরালো হয়ে উঠছে।
সূত্র: ফক্স টু ডেট্রয়েট
মন্তব্য করুন