ওজন বৃদ্ধি আজকাল অনেকেই পছন্দ করেন না। যদিও আমাদের কিঞ্চিত অবহেলার জন্য বা অমনোযোগিতার জন্য আজকাল অধিকাংশ মানুষের ওজন দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ শারিরিক কসরতে উপর ঝুকে যাচ্ছেন নিজের ওজন সমতায় আনার জন্য। পুরোপুরি সুস্থ থাকতে মাসে চার-পাঁচ কেজি ওজন কমানো যায়। কিন্তু কারও যদি জরুরি কারণে অতি অল্প সময়ে পাঁচ কেজির বেশি ওজন কমানোর দরকার পড়ে, তবে অবশ্যই পরিকল্পনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওজন কমাতে হবে।
এক মাসে পাঁচ কেজির বেশি ওজন কমানোর জন্য কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। তবে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণই নয় বরং জীবনযাপনের অভ্যাসে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কম সময়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাওয়া যাবে।
১ মাসে পাঁচ কেজির বেশি ওজন কমানোর কার্যকর কিছু উপায়
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন
মাসে পাঁচ কেজির বেশি ওজন কমাতে হলে প্রথমেই আপনাকে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। আপনার খাদ্যাভ্যাস যেন নিয়ম মেনে প্রতিদিন একই সময়ে হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। সকালবেলা ভারী নাশতা, দুপুরে ভাত এবং রাতে রুটি জাতীয় হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এই সময়ের মাঝখানে ফলমূল খাওয়া যেতে পারে। এই খাদ্যাভ্যাস আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করবে।
সুষম খাবার গ্রহণ
বেশি পরিমাণে সুষম খাবার খান যেমন ফলমূল, শাকসবজি ইত্যাদি যা আপনার ওজন কমাতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করবে। চর্বি বা চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করুন। তেলে ভাজা খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার যথাসম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। দুইবেলার মধ্যবর্তী সময়ে খিদে পেলে হালকা খাবার যেমন পপকর্ন, ফল বা ফলের জুস খেতে পারেন।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা পরিহার করুন
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার ফলে মানুষ বেশি খায় ফলে মোটা হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তাই নিজেকে ফিট রাখতে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম
দিনে কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। এর বেশি ঘুমালে আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। দিনের বেলা ঘুমানোর অভ্যাস পরিহার করুন। তাই নিয়ম মেনে রাতে জলদি ঘুমাতে যান ও ভোরবেলা উঠে পড়ুন। মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
ব্যায়াম
দ্রুত ওজন কমানোর জন্য আরেকটি কর্যকরী উপায় হচ্ছে উপায় হচ্ছে ব্যায়াম। ব্যায়াম আমাদের শরীরকে যেমন ফিট রাখে, ঠিক তেমনি আমাদের ওজন কমাতেও সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন কম করে হলেও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ব্যায়াম করতে হবে। এ সময়টুকুর মধ্যে আপনি হাঁটতে পারেন, দৌড়াতে পারেন সাঁতার কাটা ও সাইকেল চালানো আদর্শ ব্যায়াম। তাছাড়া পরিবারের দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই নিজের ব্যায়াম সেরে নিতে পারবেন।
রাতে তাড়াতাড়ি খাওয়ার চেষ্টা করুন
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার কমপক্ষে এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন আর চেষ্টা করুন আটটার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিতে। কারণ, রাতে খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি শুয়ে পড়েন, সেটা আপনার ওজন দ্রুত বেড়ে যেতে কাজ করে। রাতে ঘুমানোর আগে খিদে লাগে তাহলে ফলের জুস অথবা দুধ খেতে পারেন।
খাওয়ার আগে পানি খান
খাবার খাওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে পানি পান করুন। আপনার হজমে সাহায্য হবে। যথাসম্ভব বাড়িতে তৈরি খাবার খান। জাঙ্কফুড পুরোপুরি পরিহার করুন।
অতিরিক্ত খাবার পরিহার করুন
আপনার জন্য যেটুকু খাবার প্রয়োজন, ঠিক ওই পরিমাণে খাবার খান। নিজের শরীরের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত খাবার খেলে আপনার ওজন বাড়বেই। তাই মাসে পাঁচ কেজির বেশি ওজন কমাতে চাইলে অতিরিক্ত খাবার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন।
পানি
প্রতিদিন পরিমাণমতো এক ঘণ্টা অন্তর অন্তর পানি পান করুন। পানি আপনার শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বের করে আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া পানি আমাদের ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সুস্থ মানুষের জন্য দিনে অন্তত 2 থেকে 3 লিটার পানি পান করা উচিৎ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পানি রাখুন এবং নিয়ম মেনে তা পান করুন।
চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করুন
কাঙ্ক্ষিত ওজন কমানোর জন্য খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করা আবশ্যক। কারণ, মাত্র ১ চা-চামচ চিনিতে ১৬ শতাংশ ক্যালরি থাকে, যা আপনার ওজন বাড়ানোর অন্যতম উপাদান হিসাবে ধরা হয়। তাই চা ও দুধে চিনি পরিহার করুন।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে রয়েছে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান, যা আমাদের ওজন কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন চার কাপ করে গ্রিন টি খেলে ১ সপ্তাহে শরীর থেকে ৪০০ গ্রাম ক্যালরি ক্ষয় করা সম্ভব হয়। ফলে গ্রিন টিকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন।
রঙিন সালাদ
রোজকারের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের সবজি বা ফল দিয়ে তৈরি সালাদ রাখুন। এসব সালাদের সঙ্গে টক দই মেশিয়ে থেকে পারেন। তাতে ভালো ফলাফল পাবেন।
মন্তব্য করুন