১ অক্টোবর ২০২৫, ৩:১৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ভ্যানিটি ব্যাগ

নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ত সড়ক টাইমস স্কয়ার ব্রডওয়ে । সেভেনথ এভিনিউ-এর এলাকায় হাঁটতে হাঁটতে জুতোর দিকে তাকাচ্ছে সুশান্ত । স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকায় আসার আগে সে ভাবেনি , এই শহরের পথে পথে হেঁটে হেঁটে চাকুরির সন্ধানের জন্য ৫ হাজার বাংলাদেশি টাকার জুতোর নিচ ক্ষয়ে যাবে । খাবারের জন্য হা-হুতাশ করতে হবে । কোটিপতি বাবার হোটেলে যখন দেশে ছিল বা ভার্সিটিতে দামি পারফিউম মেখে যেত তখন সে কি ভেবেছিল, আমেরিকায় এসে তাকে এরকম না খেয়ে থাকতে হবে । পথে পথে মানুষের দ্বারে দ্বারে চাকুরির জন্য ঘুরঘুর করতে হবে !

 

 

স্প্রিং সেশনের এই সময়ে অর্থাৎ শীতের পরপরই চলে আসা । এই তো সবে মাত্র তিন সপ্তাহ হল । ১ম দু সপ্তাহ ভালো কেটেছে । জ্যাকসন হাইটসের মেরিট কাবাব রেস্টুরেন্টের বিরিয়ানী, ইত্যাদি চিকেন এন্ড গ্রিলের নানা রকম ভর্তা, কাচ্চি বিরিয়ানী, হাট বাজার রেস্টুরেন্টের হালিম, ফুচকা-চটপটি খেয়ে নিউইয়র্কের বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে কেটে গেছে । বন্ধুরা সবাই ভাবছে, ঢাকার গুলশানের বাসিন্দা দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ছেলে হয়তো অনেক টাকা দেশ থেকে নিয়ে এসেছে, খেতে থাকো । রুজভেলটের নিচের পার্টি মাস্তি আড্ডায় সাথে থাকা ১২৫০০ ডলার শেষ দুই সপ্তাহে ।

 

 

আর নীতিবান বাবা বলে দিয়েছেন, ১২৫০০ ডলার তোমাকে ৬ মাসের জন্য দিয়েছি । এ টাকা দিয়ে তুমি খাবে, থাকবে । বাকি পড়ার টাকা ডাইরেক্ট কলেজে পাঠিয়ে দিব, তুমার কাজিন গার্ডিয়ান সুনীলের কাছে ।

 

 

সময়ের গ্যাঁড়াকলে পড়ে সুশান্তর আজ মাথায় হাত, চাকুরি না করলে খাবে কি । এ দেশে সবাই কাজ করে, খেটে খেয়ে থাকে । সে দেশের যত বড় ধনাঢ্য হোক না কেন । কাজের কোন লজ্জা নাই, কাজ কাজই । তাইতো সারাদিন থেকে ম্যানহাটানে কাজের জন্য ঘুরছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে । তবে এখানে রেফারেল ছাড়া কাজ মেলে না । গার্ডিয়ান যিনি আছেন, তিনি বলে দিয়েছেন, নিজে নিজে কাজ খুঁজো এ দেশে সবাই নিজে নিজে কাজ খুঁজে কাজ করে । পড়ন্ত দুপুর ।

 

 

সেভেনথ এভিনিউ থেকে এইটথ এভিনিউ আসতেই সুশান্তর চোখে পড়ে একটি দামি ভ্যানিটি ব্যাগ

 

 

রাস্তায় পড়ে আছে । লুকিয়ে হাতে নিল । পকেটে একটা ডলারও নেই । ব্যাগ টা দেখে ভাবছে হয়তো টাকা থাকতে পারে । একটু আড়ালে গিয়ে হাত ঢুকিয়ে দেখে ও মা । দুই বান্ডিল ১০০ ডলারের নোট । আর কিছু মেকআপ পণ্য । তরিঘরি করে ব্যাগ থেকে ডলার বের করে মাটিতে ফেলে দিয়ে । খুবই বুদ্ধিমত্ত্বার সাথে চলে গেল । নিম্নে হলেও বিশ হাজার ডলার হবে এ কথা ভেবে ভেবে সেভেন ট্রেনে সোজা উডসাইড ৬১ স্ট্রীট । বাসায় এসে সে ভাবে, হায় অভাবে আমার স্বভাব নষ্ট হয়ে গেল । কার টাকা আজ আমার হাতে !

 

লেখক : সম্পাদক, ছোট কাগজ প্রবাল ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিশিগানে হবিগঞ্জ সদর সমিতির অভিষেক ও গুণী জন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি

জলবায়ু দুর্যোগে শিক্ষার সংকট, ক্ষতিগ্রস্ত ১ কোটি ২৭ লাখ শিশু

মার্কিন ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সুমাইয়া সমাজী

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে বাড়ছে ফি, আবেদনকারীদের গুনতে হবে অতিরিক্ত অর্থ

মিশিগানে ষ্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রার্থী মাহবুব খানের সাথে কমিউনিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সিলেট সদর দক্ষিণ সুরমা অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২৮ জুন

দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৫ কোটি ২ লাখ অভিবাসী নিয়ে নতুন চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যায়

ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য নতুন বিলাসবহুল এয়ার ফোর্স ওয়ান

১০

বিদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ জোরদার

১১

গৃহস্থ ও প্রবীণদের আর্থিক স্বস্তিতে নিউইয়র্কের ২ বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

১২

এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ

১৩

২৫০ বছর টিকবে কি যুক্তরাষ্ট্র? প্রশ্ন তুলেছেন ৩৮% মার্কিনি

১৪

মিশিগানে সাবেক এমপি ফরিদ চৌধুরী সরণে দোয়া মাহফিল সম্পন্ন

১৫

ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে ফাঁদ প্রতারকের টোপে পড়ে সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা

১৬

প্রথমবারের মতো ভ্যাকসিন তৈরি করল এআই, রোগ প্রতিরোধে নতুন আশা

১৭

চার্জে দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ?

১৮

আদালতের সিদ্ধান্তের পর কেনেডি সেন্টার থেকে বাদ ট্রাম্পের নাম

১৯

মিশিগানে ষ্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রার্থী সীমা আহমেদ’র সংবাদ সম্মেলন

২০