জামিদুল ইসলাম নাহিদ
২ জুলাই ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি: অস্থায়ী সুরক্ষাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদায় (টিপিএস) থাকা অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় খুঁজতে অথবা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রোববার মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এই মন্তব্য করেছেন বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেছেন তিনি। এর আগে, গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদায় থাকা অভিবাসীদের বিষয়ে বিভক্ত রায় প্রকাশ করে। ওই রায়ের পর মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের এই মন্তব্য এলো।

 

 

সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে লাখ লাখ হাইতিয়ান ও সিরিয়ান অভিবাসীর মানবিক সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই অভিবাসীরা টিপিএসের আওতায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও চরম দারিদ্র্যে জর্জরিত নিজ দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো থেকে সুরক্ষা পেয়ে আসছিলেন।

 

 

মুলিন বলেছেন, ‘‘অভিবাসীদের হয় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এখানে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকার চেষ্টা করতে হবে, নতুবা আমরাই তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করব।’’

 

 

তিনি বলেন, ‘‘আমরা আপনাদের বিমানের টিকিটের পাশাপাশি সেখানে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার জন্য প্রায় ২ হাজার ১০০ ডলার করে দেব। তবে আদালতের রায় এবং এর নাম দেখেই বোঝা যায়, অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নয়।’’

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা অন্যান্য চরম বিপর্যয় থেকে পালিয়ে আসা বিদেশি নাগরিকদের সাময়িকভাবে দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি দিতে পারে প্রশাসন।

 

 

অতীতে এই সুরক্ষার মেয়াদ বারবার বাড়ানো হলেও এবার তা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অথচ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বর্তমানে ব্যাপক সহিংসতা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও অপহরণের ঝুঁকি উল্লেখ করে হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণের ব্যাপারে নিজ নাগরিকদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে।

 

 

২০১০ সালের এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার নাগরিকদের প্রথম এই টিপিএস সুবিধা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওহাইওতে বসবাসকারী হাইতিয়ানদের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের গৃহপালিত পশু ধরে খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনেছিলেন ট্রাম্প। তবে সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা রায়ে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ জাতিগতভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ছিল; প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলাকারী হাইতিয়ানদের এমন দাবি আদালতে প্রমাণ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্টুডেন্ট লোনে নতুন অধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য কী বদলাচ্ছে

ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি: অস্থায়ী সুরক্ষাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষে শুরু ‘দ্য গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’

সন্ধা নামে : ছন্দা বিনতে সুলতান

চিঠি লিখি, ডাকবাক্সে হয় না ঢালা : আনোয়ার ইকবাল কচি

বসুধা : অনামিকা নেওয়াজ

চাবুকের হিস হিস বনাম ফেড়ারেল আইন : ইশতিয়াক রুপু

উপনিবেশ থেকে পরাশক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাস

দারুণ মজা: রাজশাহীর কালাই রুটি খেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা

ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে রোবট

১০

ফ্লোরিডা কিজ: প্রবাল দ্বীপ ও ৪২ সেতুর রহস্য

১১

এক মিনিটে ৩২ ‘টি–শার্ট’ পরে বিশ্ব রেকর্ড

১২

যে দেশে বেতনের বিনিময়ে মা-বাবাকে সময় দেন সন্তানরা

১৩

অন্ধ মানুষ স্বপ্নে কী দেখেন?

১৪

ইবাদত কবুল হওয়ার শর্তগুলো কী কী

১৫

অন্যের হক নষ্ট করে ফেললে করণীয় কী

১৬

অন্যের হক নষ্ট করলে যে শাস্তি পাবেন

১৭

৯/১১ পরবর্তী ‘ওয়ার অন টেরর’র ধাক্কা আমেরিকা এখন টের পাচ্ছে কি

১৮

বাংলাদেশে উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

১৯

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারীর জয়, স্টেট সিনেটে নতুন ইতিহাস

২০