বাংলা সংবাদ ডেস্ক
১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

টেনেসিতে ২০০ বছর পর এই প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড হতে যাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২০০ বছর পর কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে তাঁর আইনজীবীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর ঠেকাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিবিসি সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে পাইক তাঁর তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা করেছিলেন। ঘটনাটি ঘটে সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্লেমারকে মারধর ও নির্যাতনের পর হত্যা করেন পাইক ও শিপ। পরে পাইক এই হত্যাকাণ্ডের কথা অন্যদের কাছে গর্বের সঙ্গে বলতেন বলেও অভিযোগ আছে।

 

এই মামলায় পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও শিপকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে প্যারোল পাওয়ার সুযোগসহ। জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি চান না পাইক। একই সঙ্গে তাঁর ইচ্ছা, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দলটি যেন সম্পূর্ণ নারী সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। টেনেসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত কারাগারে নারী কারারক্ষীদের মাধ্যমে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হবে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।

 

নিহত কলিন স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মেয়ের আত্মা যেন শেষ পর্যন্ত শান্তি পায়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। তবে পাইকের আইনজীবীরা তাঁর শাস্তির বিরুদ্ধে যুক্তি দিচ্ছেন। আইনজীবীদের দাবি, একই অপরাধে কোনো কিশোরী আজ দোষী সাব্যস্ত হলে সম্ভবত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো না। তারা পাইকের শৈশবের ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনাগুলোও আদালতের বিবেচনায় আনার চেষ্টা করছেন।

 

ফরেনসিক মনোবিজ্ঞানী ডায়ানা ম্যাককয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইক শৈশবে তাঁর মায়ের সঙ্গী ও স্বামীদের দ্বারা নির্যাতিত হন এবং ১১ ও ১৭ বছর বয়সে অন্তত দুবার ধর্ষণের শিকার হন। ২০২৩ সালে তাঁর বিষয়ে গবেষণা করা মনোবিজ্ঞানী বেথানি ব্র্যান্ড বলেন, পাইককে এমন একাধিক ব্যক্তি নির্যাতন করেছেন, যাদের দায়িত্ব ছিল তাঁকে রক্ষা করা। আইনজীবীদের মতে, শৈশবে দীর্ঘস্থায়ী নির্যাতন পাইকের আচরণ ও মানসিক প্রতিক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আদালতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৭ টিতে মৃত্যুদণ্ড আইনত বৈধ। ১৯৮২ সাল থেকে টেক্সাসে ৬০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। টেনেসিতে ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৪টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে এবং বর্তমানে অঙ্গরাজ্যটির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা ৪০ জন।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমেরিকান পাসপোর্টে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: অনলাইনেই আবেদন, ছবি তোলা যাবে মোবাইলে

১

সেন্টার ফর এনআরবির উদ্যোগে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভা

২

ইতিহাস গড়ল স্টারশিপ প্রথম কক্ষপথে পৌঁছে ২৬টি স্যাটেলাইট স্থাপন

৩

সৌদিতে বাংলাদেশি জনশক্তির সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

৪

নিউইয়র্কে সরকারি চাকরির আবেদন সহজ করতে ‘জবস এনওয়াইসি সেন্টার’

৫

বাংলাদেশকে সুখবর দিল যুক্তরাষ্ট্র

৬

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন, সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

৭

হলুদ পাতায় হেমন্ত, জাহাঙ্গীর চৌধুরী

৮

ভালোবাসার দেশ, ইশতিয়াক রুপু

৯

বাফেলোর শরৎ, হাবিব ফয়েজি

১০

​নিউইয়র্কে ২৫ মেয়রকে নিয়ে আরবান ২০ সম্মেলন সম্পন্ন

১১

গ্লোবাল বাংলাদেশি চেম্বার অফ কমার্সের যাত্রা শুরু

১২

কম খরচে নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার সুযোগ, মিলতে পারে ১ লাখ ডলার

১৩

মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনা, নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা

১৪

ষাট পেরিয়ে নতুন শুরু: কর্নেল স্যান্ডার্সের জীবন ও কেএফসির বিশ্বজয়ের গল্প

১৫

মিশিগানে আবাসনসংকট: স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আর কত দিন দায় এড়াবে?

১৬

কলম্বাস দিবস: উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ে থাকা আমেরিকার আরেক ইতিহাস

১৭

পিঙ্ক অক্টোবর ২০২৬: গোলাপি রিবনের বার্তা পৌঁছাক মানুষের জীবনে

১৮

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী

১৯

বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসায় সামাজিকমাধ্যম যাচাই শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

২০