৯ এপ্রিল ২০২৩, ৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস

ছবিঃ সংগৃহীত

আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস । মুহাম্মাদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন সৈনিক নিয়ে ঐতিহাসিক বিজয় আসে মুসলিমদের। আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে ১৭ রমজান (১৭ মার্চ, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) মদিনার মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১৭ রমজান বদর যুদ্ধ থেকেই শুরু হয় ইসলামের যাত্রা। তওহিদ ও ইমান যে এক অজেয় শক্তি, এর সামনে দুনিয়ার সব শক্তিই মাথা নত করতে বাধ্য, এ কথা মুসলমানরা পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। বস্তুত, বদর যুদ্ধ ছিল ইমানের মহাপরীক্ষা। এতে রোজাদার সাহাবিরা যেভাবে সফলকাম হতে সক্ষম হয়েছেন, ইতিহাসে তার তুলনা নেই। সাফল্যের অপূর্ব বিজয়গাথা ইসলামের ত্যাগের শিক্ষায় সত্য ও ন্যায়ের পথে মুসলমানদের যুগ যুগ ধরে প্রাণশক্তি জুগিয়ে আসছে।

এ যুদ্ধে মুহাম্মাদ (সা.)-এর নেতৃত্বে তার সঙ্গে মুসলিম বাহিনীতে ছিলেন আবু বকর, উমর ইবনুল খাত্তাব, আলি ইবনে আবি তালিব, হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব, মুসআব ইবনে উমাইর, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, আম্মার ইবনে ইয়াসির ও আবু যার আল-গিফারি।

মুসলিম বাহিনীতে সৈনিক সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন। এর মধ্যে মুহাজির ছিলেন ৮২ জন এবং আনসারদের মধ্যে আওস গোত্রের ছিলেন ৬১ জন ও খাজরাজ গোত্রের ছিলেন ১৭০ জন। মুসলিমদের সাথে ৭০টি উট ও দুইটি ঘোড়া ছিল। ফলে তাদের সামনে পায়ে হেঁটে যাওয়া বা প্রতি দুই বা তিনজনের জন্য একটি উট ব্যবহার ছাড়া উপায় ছিল না।

অন্যদিকে কুরাইশরা ১৩শ’ সৈনিকের এক বাহিনী গড়ে তোলা হয় এবং আবু জাহল বাহিনীর প্রধান হন। এই বাহিনীতে অসংখ্য উট, ১০০ ঘোড়া ও ৬০০ লৌহবর্ম‌ ছিল। আবু জাহল, উতবা ইবনে রাবিয়া, শাইবা ইবনে রাবিয়া, আবুল বাখতারি ইবনে হিশাম, হাকিম ইবনে হিজাম, নওফেল ইবনে খুয়াইলিদ, হারিস ইবনে আমির, তুয়াইমা ইবনে আদি, নাদার ইবনে হারিস, জামআ ইবনে আসওয়াদ ও উমাইয়া ইবনে খালাফসহ মক্কার অনেক অভিজাত ব্যক্তি মক্কার বাহিনীতে যোগ দেন।

আরবের তৎকালীন যুদ্ধরীতি অনুযায়ী প্রথমে সংঘটিত মল্লযুদ্ধে মুসলিমদের হাতে কাফের বাহিনী পরাজিত হয়। মুসলিম বাহিনী বীরবিক্রমে লড়াই করে ইসলামের বিজয় কেতন ছিনিয়ে আনেন। বদর যুদ্ধে ৭০ জন কাফের নিহত ও ৭০ জন বন্দী হয়। অন্যদিকে মাত্র ১৪ জন মুসলিম বীর সেনা শহীদ হন; কাফেরদের বহু অস্ত্র ও রসদপত্র মুসলমানদের হস্তগত হলো।

বদর যুদ্ধের প্রাক্কালে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, ‘আজ যে ব্যক্তি কাফিরদের বিরুদ্ধে ধৈর্যের সঙ্গে সওয়াবের প্রত্যাশায় যুদ্ধ করবে, শহীদ হবে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন।’ (বায়হাকি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিশিগানে ১৫ আগস্ট শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ফুলমুন ইসলামিক কালচারাল ফেস্টিভ্যাল

মিশিগানে আম-কাঁঠালি উৎসবে বাঙালির মিলনমেলা

মিশিগানে মুনার দাওয়াহ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত অংশ নেন হাজারো মানুষ

৬১% মার্কিনি চান সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়ুক নজরদারি

হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প

চা শ্রমিকদের গণবিক্ষোভ, দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি

শুধু সন্তান জন্মের জন্য বছরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান কত মানুষ

চাকরি হারালেই ৬০ দিন সময় নয়, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাধারীদের জন্য নতুন পরিবর্তনের প্রস্তাব

চুল গজাতে পেয়ারা পাতা—আসলেই কি কাজ করে?

মার্কিন নাগরিকত্ব নীতিতে আবারও ট্রাম্পের কড়াকড়ি, মানলেন না আদালতের রায়

১০

৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কলেজ অধ্যাপক

১১

হ্যাকিং বিতর্কে মেটার এআই, বাড়ছে সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কা

১২

ইসরাইল ইস্যুতে অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ায় কি প্রভাব পড়বে

১৩

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের রকেট

১৪

আনন্দঘরে বিপুল আনন্দ

১৫

‘জুলাইকার’ এই বিতর্কের জন্য আদালত থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৬

জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া না হলে সেটা জাতির জন্য লজ্জার হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

১৭

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রাইমারিতে জয়ী আবদুল আল-সাইয়েদ, ব্যর্থ কোটি কোটি ডলারের প্রচারণা

১৮

মিশিগানে দক্ষিণ সুরমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের বনভোজন অনুষ্ঠিত

১৯

বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস, ৫ অঞ্চলে মিশন বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

২০